Hili | তৈরি হয়নি সেতু, বেহাত হিউমপাইপ, বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ গ্রামবাসীর

Hili | তৈরি হয়নি সেতু, বেহাত হিউমপাইপ, বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ গ্রামবাসীর

ভিডিও/VIDEO
Spread the love


হিলি: কথা ছিল, শ্মশানে যাতায়াতের সুবিধার্থে নয়ানজুলির ওপর একটি সেতু তৈরি হবে। তিন বছর পেরোলেও সেতু তৈরি হয়নি। এদিকে, সেতু তৈরির জন্য সরকারি টাকায় কেনা বেশ কয়েকটি হিউমপাইপ বেআইনিভাবে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ বিজেপির এক পঞ্চায়েত সদস্যের বিরুদ্ধে। যদিও তাঁর দাবি, ওই সরকারি নির্মাণসামগ্রী পড়ে পড়ে নষ্ট হচ্ছিল বলে তিনি স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের অনুমতি নিয়ে স্থানীয়দের দিয়েছিলেন। কোনও আর্থিক লেনদেন হয়নি। যাঁরা ওই হিউমপাইপগুলো নিয়েছেন, তাঁদের বক্তব্যও একই।

সাফাই দিলেও বিতর্ক থেমে থাকেনি। প্রশ্ন উঠছে, কাজ বন্ধ বলে সরকারি নির্মাণসামগ্রী কীভাবে একজন পঞ্চায়েত সদস্য এভাবে বিলিয়ে দিতে পারেন! আবার গ্রামবাসীর একাংশ সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন, টাকার বিনিময়েই হিউমপাইপগুলো বিক্রি করা হয়েছে। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে হিলি থানার ধলাপাড়া-৩ গ্রাম পঞ্চায়েতের ডাবরা এলাকায়। যাঁরা পাইপগুলো নিয়ে গিয়েছিলেন, গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান রবিবার তাঁদের সেগুলো ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন বিজেপির ওই পঞ্চায়েত সদস্য।

অভিযুক্ত গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য সুচিত্রা বর্মন মণ্ডল বলেছেন, ‘ভিত্তিহীন অভিযোগ। দীর্ঘদিন ধরে শ্মশান এলাকায় পাইপগুলো পড়ে ছিল৷ বাসিন্দারা আমাকে নেওয়ার জন্য বলেছিল। আমি প্রধানের সঙ্গে কথা বলে অনুমতি নিয়েই বাসিন্দাদের নিতে বলি৷’

ধলাপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বীথিকা ঘোয স্বীকার করেছেন তাঁর কাছে অভিযুক্ত ওই হিউমপাইপগুলো নেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু বিক্রির বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে দাবি। তাঁর কথায়, ‘আমি নিজে পাইপগুলো দেখিনি। বাসিন্দারা নেওয়ার পরে বিষয়টি নজরে আসে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে হিউমপাইপ যথাস্থানে ফেরত দিতে বলেছি।’ এর বেশি তিনি আর কিছু মন্তব্য করতে চাননি।

বছর তিনেক আগে ধলাপাড়া-৩ গ্রাম পঞ্চায়েতে যাতায়াতের সুবিধার্থে ত্রিমোহিনী পতিরাম রাজ্য সড়ক থেকে ডাবরা শ্মশানকে জুড়তে মাঝের নয়ানজুলিতে সেতু তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। বড় আকারের চারটি হিউমপাইপ কেনে পঞ্চায়েত। কিন্তু কোনও অজানা কারণবশত সেতু তৈরির কাজ থমকে যায়। এরপর থেকে দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় হিউমপাইপগুলো পড়ে ছিল৷

অভিযোগ, বছরখানেক আগে একটি হিউমপাইপ শ্মশানের পার্শ্ববর্তী এক বাসিন্দা তাঁর বাড়ির সামনের নয়ানজুলিতে বসিয়ে রাস্তা বানান। দিন কয়েক আগে আরও দুটি হিউমপাইপ নিয়ে যান স্থানীয় দুই ব্যক্তি। তাঁরাও ক্রেনে করে সেগুলো নিয়ে গিয়ে নিজেদের বাড়ির সামনে বসিয়েছেন৷

হিউমপাইপ নিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা হীরেন ওরাওঁ। তাঁর দাবি, হিউমপাইপগুলো যে সরকারি, তা তিনি জানতেন না। হীরেন বলেন, ‘আমি কাজে ছিলাম। আমাকে ফোন করে হিউমপাইপ দেওয়া হবে বলে জানানো হয়৷ ক্রেনে করে আনতে আমার ২২০০ টাকা খরচ হয়।’ যদিও আরেক বাসিন্দা রতন রায় দ্রুত হিউমপাইপ উদ্ধার করে সেতু তৈরির দাবি জানিয়েছেন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *