Harishchandrapur | নেশার টাকা জোগাড়ে বাড়ছে ছিঁচকে চুরি

Harishchandrapur | নেশার টাকা জোগাড়ে বাড়ছে ছিঁচকে চুরি

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


সৌরভকুমার মিশ্র, হরিশ্চন্দ্রপুর: বেশ কিছুদিন ধরেই হরিশ্চন্দ্রপুর থানা (Harishchandrapur) এলাকার বিভিন্ন অঞ্চলে ব্রাউন সুগারের রমরমা বেড়েছে। সাধারণত এলাকার তরুণ প্রজন্মের একাংশ এই নেশায় আসক্ত হচ্ছে। গত বুধবার মহেন্দ্রপুর গ্রাম থেকে এক ব্রাউন সুগার বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবারও নেশার সামগ্রী সহ তিন তরুণকে বাংলা-বিহার সীমানা সংলগ্ন খন্তাবাঁধ রোড এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে একের পর এক গ্রেপ্তারি থেকে সাফল্য মিললেও পুরো ব্যাপারটি প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, হরিশ্চন্দ্রপুর সহ বিভিন্ন পঞ্চায়েত এলাকার গ্রামগুলিতে ঘনঘন চুরির ঘটনা ঘটছে। কখনও মোটর সাইকেল, কখনও ফাঁকা বাড়িতে চুরি, কখনওবা দোকান থেকে ক্যাশ বাক্স লুট করে পালাচ্ছে চোরেরা। আর এইসবের পিছনে ব্রাউন সুগারে আসক্ত তরুণদের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলছেন স্থানীয়রা।

কয়েক মাস আগে হরিশ্চন্দ্রপুরে তুলসীহাটা সদর এলাকায় পরপর বেশ কয়েকটি চুরির ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বিজেপি পঞ্চায়েত সদস্য শশীদেব পান্ডে বলেন, ‘শুধু তুলসীহাটাই নয়, আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাতেও এই বহুমূল্যবান নেশা ঢুকে গিয়েছে। কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু পড়ুয়া এখন এই ব্রাউন সুগারের নেশায় আসক্ত। এই চক্র গড়ে তোলার পেছনে প্রভাবশালীর মদত না থাকলে এত বাড়বাড়ন্ত হত না। আমরা বারবার এই নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছি। পুলিশকে এই বিষয়টি আরও কড়া হাতে মোকাবিলা করা উচিত।’

সম্প্রতি মহেন্দ্রপুর এলাকার এক শিক্ষক মহম্মদ কামরুজ্জামানের বাড়ির সামনে থেকে তাঁর বাইক চুরি যায়। চুরির ঘটনা সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়া সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত চোর অধরা। ঘটনায় পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হলেও এখনও পর্যন্ত দুষ্কৃতীর হদিস পাওয়া যায়নি। উদ্ধার হয়নি চোরাই বাইকটিও। কামরুজ্জামানের অভিযোগ, ‘এলাকায় মাদকাসক্তরা এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। আমি ইতিমধ্যেই এলাকার পুলিশ প্রশাসন সহ জেলা পুলিশ এবং মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানিয়েছি। অবিলম্বে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে তরুণ প্রজন্ম ধ্বংসের মুখে চলে যাবে।’ স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কিছুদিন আগে ওই এলাকার একটি স্কুলের সামনে ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার ঘটনাও সামনে এসেছিল। সেখানেও অভিযুক্তের তালিকায় ছিল এলাকারই মাদকাসক্ত কয়েকজন তরুণ।

এদিকে এই ব্রাউন সুগারে আসক্ত তরুণদের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হরিশ্চন্দ্রপুর স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্তারা। এলাকার দুটি ব্লক হাসপাতালে এই নিয়ে চিকিৎসা করাতে আসছেন অনেকেই। তাছাড়া এলাকার বেশকিছু গজিয়ে ওঠা নেশামুক্তিকেন্দ্রের মাধ্যমে এদের চিকিৎসা চলছে। অভিযোগ, এসব গজিয়ে ওঠা অধিকাংশ নেশামুক্তিকেন্দ্রেরই লাইসেন্স নেই।

হরিশ্চন্দ্রপুর হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মফিজউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘পুলিশ প্রশাসন এবং ব্লক প্রশাসন যৌথভাবে সচেতনতা প্রচারে এগিয়ে আসুক। এলাকার বুদ্ধিজীবীরাও যদি এবিষয়ে এগিয়ে না আসে তাহলে আগামী প্রজন্ম বিপথে চলে যাবে। আমরাও চেষ্টা করছি যাতে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে এব্যাপারে সচেতনতা তৈরি করা যায়।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *