হরিশ্চন্দ্রপুর: ভোটার তালিকার ‘বিচারাধীন’ বা ‘বিবেচনাধীন’ স্তম্ভটি যেন এখন সাধারণ মানুষের কাছে এক মরণফাঁদ। আবারও এসআইআর (SIR) আতঙ্কে প্রাণ গেল এক মহিলার। মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার দৌলতপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের শীতলপুর গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে। মৃতার নাম হাজেরা বিবি (৫৫)। পরিবারের বাকি সদস্যদের নাম তালিকায় থাকলেও, একমাত্র নিজের নাম না থাকায় ‘ডিটেনশন ক্যাম্প’-এর ভয়ে তিনি আত্মহননের পথ বেছে নেন বলে অভিযোগ।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
মৃতার স্বামী আব্দুর হালিম পেশায় এক দিনমজুর। রবিবার রাতে এসআইআর-এর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর দেখা যায়, বাড়ির প্রত্যেকের নাম তালিকায় সঠিক থাকলেও হাজেরা বিবির নাম রয়েছে ‘বিবেচনাধীন’ (Beneath Consideration) তালিকায়। স্থানীয় সূত্রে খবর, তালিকা দেখার পর থেকেই চরম উদ্বেগ ও মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন তিনি। বারবার আশঙ্কা প্রকাশ করছিলেন যে তাঁকে হয়তো ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হবে। রবিবার রাতেই তিনি বিষ পান করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে প্রথমে হরিশ্চন্দ্রপুর হাসপাতাল ও পরে মালদা মেডিকেল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়। সোমবার সকালে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
রণংদেহী মন্ত্রী তজমুল হোসেন
খবর পেয়েই মৃতার বাড়িতে পৌঁছান রাজ্যের ক্ষুদ্র, মাঝারি শিল্প ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী তজমুল হোসেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই মৃত্যুর জন্য সরাসরি নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারকে দায়ী করেছেন তিনি। মন্ত্রীর বিস্ফোরক দাবি:“ “এই মৃত্যুর জন্যও দায়ি নির্বাচন কমিশন। জানি না, আরও কতজনকে প্রাণ দিতে হবে।আর কত দিতে হবে প্রান নেবে কেন্দ্র সরকার আর কমিশন?আমার বিধানসভায় মোট ৯১ হাজার লোকের নাম বিচারাধীন, যা খুবই উদ্বেগজনক।মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার মানুষের ভোটাধিকার বাঁচানোর স্বার্থে রাজপথ থেকে সুপ্রিম কোর্ট সর্বত্রই লড়াই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। আমরা এর শেষ দেখে ছাড়ব।’ ঘটনা প্রসঙ্গে হাজেরার বুথের তৃণমূল সদস্য মহম্মদ সামাউন বলেন, “বুথের ১৩৮৩ ভোটারের মধ্যে ৭৫০ জনের নাম বিবেচনাধীন। আতঙ্কে হাজেরা আত্মঘাতী হয়েছেন।”
