অমিতকুমার রায়, হলদিবাড়ি: বিতর্কের কেন্দ্রে হুজুর সাহেবের মেলা। মেলার আগে নতুন কমিটি গঠন নিয়ে জলঘোলা হয়েছিল বিস্তর। এবার হুজুরের মেলায় প্রাপ্ত টাকাপয়সা নিয়ে নতুন করে সমস্যা তৈরি হয়েছে। তারই জেরে ইসালে সওয়াব অর্থাৎ হুজুরের মেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই কার্যত তালাবন্ধ অবস্থায় স্বয়ং হুজুর সাহেব (Haldibari Hujur Saheb Mazar disaster)। মাজারে চাঁদোয়া চড়াতে না পারায় ক্ষোভ বাড়ছে ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে।
প্রতিবছর রমজান (Ramadan) মাসের নবম দিনে হুজুর সাহেবের প্রয়াণ দিবস পালন করা হয়। কিন্তু পরিস্থিতি যা, তাতে এবছর প্রয়াণ দিবসেও তালাবন্ধ অবস্থায় হুজুরের মাজার থাকতে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যা নিয়ে ক্ষুব্ধ মুসলিম ধর্মপ্রাণ মানুষ।
রমজান মাসের কারণে এবছর প্রায় এক মাস আগে ১৫-১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় উত্তরবঙ্গে ঐতিহ্যবাহী হলদিবাড়ি (Haldibari) হুজুর সাহেবের মেলা। নজিরবিহীনভাবে মেলা শেষের এক মাস পরেও তালা ঝুলছে মাজারের মূল গেটে। ২৪ ঘণ্টা রয়েছে পুলিশি পাহারা। ফলে গেটের বাইরে থেকে দোয়া করে ফিরে যেতে হচ্ছে পুণ্যার্থীদের। হুজুরের কবরে চাঁদোয়া চড়াতে পারছেন না দূরদূরান্ত থেকে আসা হুজুরভক্তরা। প্রসঙ্গত, প্রত্যেক বছর হুজুর সাহেবের মেলা শেষে দানের টাকাপয়সা মাজারের ভেতরে রেখে হুজুরদের ওয়ারিশদের তরফে মাজারের গেট তালাবন্ধ করে দেওয়া হয়। কয়েকদিন ধরে সেই টাকা গোনা হয়। টাকা গোনার কাজ শেষ হলে বছরের বাকি সময়ের জন্য গেট খুলে দেওয়া হয়।
হলদিবাড়ির পিরজাদা সৈয়দ খন্দকার শরিফুল আরফিন বলেন, ‘মুর্শিদাবাদে বসবাসকারী হুজুরের বংশধররা হলদিবাড়িতে না আসার কারণে এবছর টাকা গোনা সম্ভব হচ্ছে না। হুজুরের বংশধরদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা জানান, এসআইআর সংক্রান্ত কাজের জন্য এখন আসতে পারছেন না।’ সূত্রের খবর, মুর্শিদাবাদের হুজুরের বংশধরদের একাংশ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। একরামিয়া ইসালে সওয়াব কমিটির যুগ্ম সম্পাদক লুৎফর রহমানের স্বীকারোক্তি, ‘এই ঘটনার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ভুল বার্তা যাচ্ছে। রমজান মাসে হুজুরের দর্শন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ভক্তরা।’
