Gothenburg | গোথেনবার্গের পুজোয় নকশিকাঁথা, ছৌ নাচ

Gothenburg | গোথেনবার্গের পুজোয় নকশিকাঁথা, ছৌ নাচ

শিক্ষা
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ বাংলা থেকে কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরে, তুষারে ঢাকা সুইডেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর গোথেনবার্গের উৎসবে বাঙালিয়ানার আমেজ। মানে, প্রবাসী বাঙালিদের জমজমাট দুর্গোৎসব!
গোথেনবার্গ শহরে বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশন অফ গোথেনবার্গ (ব্যাগ)-এর পুজো এবার সপ্তম বছরে পা দিল। কিন্তু ভাববেন না, বিদেশে পুজো মানেই শুধু জমিয়ে খাওয়াদাওয়া আর ঠাকুর দেখা। ওদের পুজোতে আছে থিম, আছে নিজের হাতে সাজানো শিল্পকর্ম, এমনকি পুরোহিতগিরিও করছেন সমিতির সদস্য পাঁচজন মহিলাই। কলকাতার অধ্যাপিকা নন্দিনী ভৌমিকের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এখন তাঁরা পুজোর মন্ত্র থেকে শুরু করে অঞ্জলি দেওয়া পর্যন্ত সবই সাবলীল ভঙ্গিতে সামলাচ্ছেন। তৃতীয় বছর চলছে তাঁদের এই আত্মনির্ভর পুরোহিতি।
গোথেনবার্গের বাঙালি সমিতির এবারের পুজোর থিম—বাংলার অমূর্ত শিল্প। সদস্যদের নিজেদের হাতে তৈরি নানা শিল্পকর্মে ভরে উঠছে প্যান্ডেল। নকশিকাঁথা, কাঠের পুতুল, পটচিত্র—সবই আছে তাতে। ব্যক্তিগত শিল্প দক্ষতার সমন্বয় ঘটিয়ে প্রতিমা ও মঞ্চসজ্জা করেছেন সমিতির সদস্যরা। ঠাকুর দেখা মানেই এখানে বাংলার শিল্পের ক্লাসও ফ্রি!
‘ব্যাগ’-এর অন্যতম উদ্যোক্তা অমৃতা লস্কর বললেন, তাঁদের পুজোর এবছরের থিম ‘ট্যানজিবল হেরিটেজ’, যেখানে বাংলার বিপন্ন শিল্পরূপ যেমন বিষ্ণুপুরের পোড়ামাটির ঘোড়া, পুরুলিয়ার ছৌ মুখোশ এবং কলকাতার সূক্ষ্ম পটচিত্র শিল্প বিশেষভাবে তুলে ধরা হবে। তাঁর কথায়, ‘আমাদের লক্ষ্য শুধু পুজো নয়, বরং ঐতিহ্য রক্ষা ও পরিবেশ সচেতনতার সমন্বয়ে একটি বার্তা পৌঁছে দেওয়া।’ এজন্যই ডেকোরেশনে পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণের ব্যবহারেও জোর দিয়েছেন অমৃতারা।
শুধু দুর্গাপুজোই নয়, সারাবছরই সমিতি ব্যস্ত থাকে সরস্বতীপুজো, নববর্ষ, গ্রীষ্মকালীন বনভোজন, মহিষাসুরমর্দিনী, বিজয়া সম্মিলনীর ব্যবস্থাপনায়। আগামী বছর আবার নতুন চমক, শুরু হতে চলেছে কালীপুজো! আর গোথেনবার্গে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে মিলে আন্তর্জাতিক যোগদিবসও আয়োজন করে ওরা।
২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ‘ব্যাগ’ দুর্গাপুজো আয়োজনের মাধ্যমে বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রাণবন্ততা বজায় রেখেছে। করোনা মহামারির বছরগুলিতেও তারা ধারা বজায় রেখেছিল কলসপুজোর মধ্য দিয়ে। ২০২২ সাল থেকে ফের জাঁকজমক করে পুজো শুরু হয়। সংস্কার ভেঙে পুরোহিতের দায়িত্ব মহিলাদের হাতে সঁপে দেওয়া ‘শুধু আচার নয়, অন্তর্ভুক্তি ও ক্ষমতায়নের প্রতীক’, বলছেন আয়োজকরা।
প্রতি বছর ব্যাগ-এর পুজোয় গড়ে ৫০০-৬০০ মানুষ যোগ দেন। বোধন থেকে সিঁদুরখেলা, সব আচার পালনের পাশাপাশি দু’দিন জুড়ে থাকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান—আবৃত্তি, নাচ-গান থেকে স্থানীয় ব্যান্ড ও নৃত্যবিদ্যালয়ের পরিবেশনা।
এবারেও সুইডেনের ঠান্ডা হাওয়া গায়ে লাগতে দিচ্ছেন না গোথেনবার্গের বাঙালিরা। ঠাকুর গড়া থেকে আরতি, খাওয়া-দাওয়া থেকে গান-বাজনা—সবই করছেন একে



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *