Gosanimari | পর্যটকের ভিড় গোসানিমারি রাজপাটে    

Gosanimari | পর্যটকের ভিড় গোসানিমারি রাজপাটে    

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


অমৃতা দে, দিনহাটা: শীতের মরশুম শুরু হতেই দিনহাটা-১ ব্লকের গোসানিমারি-২ গ্রাম (Gosanimari) পঞ্চায়েতের ঐতিহাসিক রাজপাট ঢিপিতে পর্যটকদের আনাগোনা বেড়েছে। দিনহাটা শহর থেকে ১০ কিলোমিটার  দূরত্বে  এই প্রাচীন রাজপাট অবস্থিত, যা কোচ রাজাদের প্রাচীন রাজধানী হিসেবে সুপরিচিত। বছরের অন্য সময় ভিড় লেগে থাকলেও নভেম্বরের মাঝামাঝি হালকা শীত পড়তেই শুক্রবার থেকে পর্যটকের সংখ্যা অনেকাংশে বেড়েছে। গোসানিমারি-২ গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান ফতেয়া রাব্বানার মতে, রাজপাটকে ঘিরে পর্যটন আরও গড়ে উঠলে কর্মসংস্থানের পথ খুলবে। আপাতত শীত শুরু হতেই গোসানিমারির রাজপাট আবারও সাক্ষ্য দিচ্ছে, ইতিহাসের টানে মানুষের আগ্রহ চিরকাল অটুট।

কোচবিহারের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেক মানুষ রাজপাট ঢিপির টানে ছুটে আসছেন।  জামালদহের পর্যটক  রিয়া দেব রায় বলেন, ‘অনেকদিন ধরে লোকমুখে রাজার গড়ের ইতিহাস শুনেছি। স্বচক্ষে দেখার খুব ইচ্ছা ছিল। এদিন সময় পেয়ে চলে এলাম। সত্যি দারুণ লাগছে। ইতিহাস যেন চোখের সামনে জীবন্ত।’

রাজপাট ঢিপি একসময় কামতাপুর রাজ্যের মূল দুর্গ বলে প্রচলিত ছিল। ইতিহাসবিদদের মতে, কোচবংশের প্রতিষ্ঠাতা মহারাজা বিশ্বসিংহ ১৫১০ থেকে ১৫২৫ সাল পর্যন্ত এখানে তাঁর রাজধানী স্থাপন করেন। এখানে অনেক প্রাচীন রাজপ্রাসাদ, দুর্গ ও মন্দির ছিল। পরে মহারাজা নরনারায়ণ রাজধানী কোচবিহারে সরিয়ে নিলে গোসানিমারি ধীরে ধীরে রাজকীয় কেন্দ্র থেকে বিচ্ছিন্ন হলেও ইতিহাসের গুরুত্ব বরাবর অটুট থেকেছে।

রাজপাট সংলগ্ন এলাকায় এখনও একটি বিশাল মাটির ঢিপি পাহাড়ের মতো মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে। সেই ঢিপিকে ঘিরে বছরের পর বছর ইতিহাসপ্রেমী ও সাধারণ পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকে। শীত পড়তেই সেই ভিড় এবছর আরও বাড়ছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। স্থানীয় রমাকান্ত বর্মনের কথায়, ‘বছরের অন্য সময় খুব বেশি লোক আসে না। কিন্তু শীত পড়লে ভিড় বেড়ে যায়। তখন আমাদের বিক্রি অনেক ভালো হয়। পর্যটকরা রাজপাট দেখে এসে চা, ফুচকা ও পকোড়া কিনছেন।’

পাশেই মমতা রায় চায়ের দোকান বসিয়েছেন। তিনি জানান, শুক্রবার থেকে ক্রেতার সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে গিয়েছে। আগে দিনে ৪০০–৫০০ টাকা বিক্রি হত। এখন সেটা ১ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এতে তাঁদের সুবিধা হয়েছে।

শুক্রবার সিতাই থেকে অরিত্র চক্রবর্তী রাজপাট ঢিপি দেখতে এসেছিলেন। তাঁর মন্তব্য, ‘এই এলাকাটি ঐতিহাসিক দিক থেকে অসাধারণ। তবে পর্যটকদের বসার ব্যবস্থা হলে ভালো হত।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *