উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বিশ্ববাজারের অস্থিরতা এবং শক্তিশালী বিনিয়োগের প্রভাবে ভারতের বাজারে সোনা ও রুপো এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে গেল। সোমবার সপ্তাহের শুরুতেই বড়সড় ধাক্কা খেল সাধারণ ক্রেতারা। অল ইন্ডিয়া সারাফা অ্যাসোসিয়েশনের (All India Sarafa Affiliation) রিপোর্ট অনুযায়ী, জাতীয় রাজধানীতে ১০ গ্রাম সোনার দাম (Gold Worth) ১,৬৮৫ টাকা বেড়ে পৌঁছে গিয়েছে ১,৩৮,২০০ টাকায়। সোনার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রুপোও ইতিহাস গড়েছে। কেজি প্রতি রুপোর দাম ১০,৪০০ টাকা লাফিয়ে দাঁড়িয়েছে ২,১৪,৫০০ টাকায়।
আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব
দেশের বাজারে এই বিপুল দাম বৃদ্ধির নেপথ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারের সংকেত। বৈশ্বিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ১.৮৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৪,৪২০.৩৫ ডলারে পৌঁছেছে, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ। এইচডিএফসি সিকিউরিটিজের (HDFC Securities) সিনিয়র অ্যানালিস্ট সৌমিল গান্ধি জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার ক্রমাগত কমতে থাকা এবং আমেরিকার অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় বিনিয়োগকারীরা এখন সবচেয়ে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনা ও রুপোকেই বেছে নিচ্ছেন। যখনই ডলারের মান কমে বা বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি হয়, তখনই বিনিয়োগকারীরা সোনার দিকে ঝোঁকেন, যা দাম বাড়িয়ে দেয়।
ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপদ আশ্রয়
কেবল অর্থনৈতিক কারণ নয়, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতাকেও এই দাম বৃদ্ধির জন্য দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। যুদ্ধের সম্ভাবনা বা রাজনৈতিক টানাপোড়েন চললে মানুষ নগদ টাকার চেয়ে সোনা মজুত করাকে বেশি গুরুত্ব দেয়। একে অর্থনৈতিক পরিভাষায় বলা হয় ‘সেফ-হেভেন অ্যাসেট’। এই চাহিদাই মূলত দামকে আকাশছোঁয়া পর্যায়ে নিয়ে গেছে।
রুপোর দামে কেন এত বড় লাফ?
রুপোর ক্ষেত্রে দাম বৃদ্ধির কারণটি কিছুটা ভিন্ন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রুপোর চাহিদা কেবল বিনিয়োগেই সীমাবদ্ধ নয়, শিল্পক্ষেত্রেও এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল এবং ইলেকট্রনিক্স শিল্পে রুপোর প্রয়োজন দিন দিন বাড়ছে। অগমন্টের রিসার্চ হেড রেনিশা চেনানি জানিয়েছেন, খনি থেকে উত্তোলনে নানা সমস্যা এবং বর্তমানে মজুত রুপোর পরিমাণ কমে আসায় বাজারে সরবরাহের বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। জোগানের চেয়ে চাহিদা অনেক বেশি হওয়ায় একদিনেই রুপোর দাম কেজিতে ১০ হাজার টাকার বেশি বেড়েছে।
ক্রেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ
বিয়ের মরসুম চলছে। তার আগে সোনা ও রুপোর এই নজিরবিহীন দাম বৃদ্ধি সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, যদি আন্তর্জাতিক বাজারে এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকে, তবে সোনার দাম খুব শীঘ্রই দেড় লক্ষ টাকার গণ্ডিও পার করতে পারে। খুচরো বাজারে গয়না তৈরির ক্ষেত্রেও এর বড় প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
একনজরে আজকের বাজারদর (২২ ডিসেম্বর):
| ধাতু | বর্তমান দাম | বৃদ্ধি (আজকের) |
| সোনা (১০ গ্রাম) | ১,৩৮,২০০ টাকা | ১,৬৮৫ টাকা |
| রুপো (১ কেজি) | ২,১৪,৫০০ টাকা | ১০,৪০০ টাকা |
