উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: পিঠে স্মার্টফোন ঠেকিয়েই বলে দেওয়া হচ্ছে কে ভারতীয় আর কে ‘বাংলাদেশি’! উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে (Ghaziabad) পুলিশের এমনই এক অদ্ভুত কর্মকাণ্ডের ভিডিও (ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি উত্তরবঙ্গ সংবাদ) ভাইরাল হতেই তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ভয় দেখিয়ে বস্তিবাসীদের হেনস্থা করার। এই ঘটনায় গাজিয়াবাদ পুলিশ একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কৌশাম্বী থানার জনৈক পুলিশ আধিকারিক (স্টেশন হাউস অফিসার) একটি বস্তি এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছেন। সেখানে এক বৃদ্ধের পিঠে একটি স্মার্টফোন ঠেকিয়ে তিনি দাবি করছেন যে, ওই ব্যক্তি বাংলাদেশি। ভিডিওতে পুলিশ আধিকারিককে বলতে শোনা যায়, “মিথ্যা বোলো না; আমাদের কাছে মেশিন আছে যা দিয়ে মিথ্যা ধরা যায়।”
ভিডিওতে দেখা যাওয়া ওই পরিবারটি আদতে বিহারের আরারিয়ার বাসিন্দা। ২২ বছর বয়সী এক তরুণী এবং তাঁর বাবা ৭৬ বছর বয়সী মহম্মদ সিদ্দিক বারবার দাবি করেন যে তাঁরা ভারতীয়। মোবাইলে নিজেদের নথিপত্রও দেখান তাঁরা। কিন্তু উপস্থিত পুলিশ কর্মীরা তাতে কর্ণপাত করেননি বলেই অভিযোগ। পেশায় মাছ বিক্রেতা সিদ্দিক জানান, ১৯৮৭ সাল থেকে তিনি গাজিয়াবাদে বসবাস করছেন, তবুও তাঁদের বাংলাদেশি বলে ভয় দেখানো হয়েছে।
ডিসিপি (ট্রান্স-হিন্ডন) নিমীষ পাতিল জানিয়েছেন, গত ২৩ ডিসেম্বর বড়দিন ও ইংরেজি নববর্ষের আগে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ‘এরিয়া ডমিনেশন এক্সারসাইজ’ চালাচ্ছিল কৌশাম্বী থানা এবং র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF)। ভিডিওটি সেই সময়েরই। পুলিশের দাবি, এটি রুটিন তল্লাশি ছিল। তবে ভাইরাল ভিডিওর সত্যতা এবং পুলিশের আচরণের ধরণ খতিয়ে দেখতে ইন্দিরাপুরম সার্কেলের এসিপি-কে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সাধারণত সংবেদনশীল এলাকায় অপরাধ রুখতে এবং জননিরাপত্তা বজায় রাখতে পুলিশ এই ধরনের মহড়া চালায়। কিন্তু ‘মিথ্যা ধরার মেশিন’ বা স্মার্টফোন দিয়ে অবৈধ নাগরিক শনাক্তকরণের দাবি করে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করা কতটা আইনসঙ্গত, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মানবাধিকার কর্মীরা।
