গৌতম দাস, গাজোল: সালটা ১৯৯৪। রাজ্যে রমরমিয়ে চলছে বামফ্রন্ট সরকার। কংগ্রেস নেত্রী হিসেবে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সেই সময় গাজোলে ঘটে যায় এক নৃশংস ঘটনা। বর্গার দাবি না ছাড়ার জন্য জীবন্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয় বর্গাদার চাঁদু শেখের পরিবারকে। ঘরে শিকল তুলে লাগিয়ে দেওয়া হয় আগুন। ঘর থেকে বের হতে না পেরে জীবন্ত পুড়ে মারা যান চাঁদুর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রোকেয়া বিবি, আট বছরের মেয়ে আখতারি বানু, পাঁচ বছরের ছেলে জাহাঙ্গির হোসেন এবং বছর তিনেকের ছেলে এন্তাজুল হোসেন। গুরুতর অগ্নিদগ্ধ হন চাঁদু নিজেও। কোনওরকমে তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় মালদা জেলা হাসপাতালে। দেওতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের ঢাকনাপাড়ার এই ঘটনা সেই সময় আলোড়ন তুলেছিল গোটা রাজ্যে। ঘটনার পর বাম নেতারা ছুটে গিয়েছিলেন গ্রামে। কলকাতা থেকে চলে এসেছিলেন মমতা। চাঁদুকে নিয়ে জোরদার আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন তিনি। চাঁদুর পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছিলেন।
এই ঘটনার পর চাঁদু শেখ চলে আসেন গাজোল শহরের সরকারপাড়ায় (Gazole)। সেখানেই বাড়ি তৈরি করে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বর্তমানে চাঁদু গুরুতর অসুস্থ। বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর জনসভায় এসেছিলেন তিনি। ইচ্ছে ছিল মুখ্যমন্ত্রীর হাতে আবেদনপত্র তুলে দিয়ে তাঁর সঙ্গে দুটো কথা বলার। কিন্তু সেই আশা এদিন আর পূরণ হয়নি। দেখা হয়নি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে। এদিন সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে কেঁদে ফেলেন চাঁদু। বলেন, ‘সেই সময়কার কংগ্রেস নেত্রী বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আশ্বাস দিয়েছিলেন আমার জন্য কিছু করবেন। আগে বেশ কয়েকবার দিদির সঙ্গে দেখা করেছিলাম। মালদায় এলেই মুখ্যমন্ত্রী আমার কথা বলেন। বর্তমানে আমি খুব অসুস্থ। তাই দিদির কাছে আমার কথা তুলে ধরতে চেয়েছিলাম। কিন্তু দেখা হল না।’ তবে মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষীর হাতে আবেদনপত্র তুলে দিয়েছেন চাঁদু। তাঁর আশা, নিশ্চয়ই সাড়া দেবেন মুখ্যমন্ত্রী।
