উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের রণাঙ্গন থেকে ধেয়ে আসা যুদ্ধের আঁচ কি এবার সরাসরি সাধারণ মানুষের পকেটে পড়তে শুরু করল? শনিবার সকালে ঘুম ভাঙতেই দেশবাসী দেখল গৃহস্থের রান্নার গ্যাসের দাম একলাফে বেড়েছে ৬০ টাকা। একদিকে ইরান-ইজরায়েল-আমেরিকা সংঘাতের জেরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) প্রায় অবরুদ্ধ, অন্যদিকে দেশের বাজারে রান্নার গ্যাসের চড়া দাম— সব মিলিয়ে আমজনতার মধ্যে উদ্বেগের পারদ চড়ছিল। তবে এই পরিস্থিতির মধ্যেই একটি ‘স্বস্তির বার্তা’ দিয়েছে কেন্দ্র।
পেট্রল-ডিজেলের দামে নেই কোপ: ভরসা ‘বিকল্প পথ’
সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন ছিল, গ্যাসের মতো কি জ্বালানি তেলও মহার্ঘ হবে? সরকারি সূত্রের দাবি, পেট্রল বা ডিজেলের দাম বাড়ানোর আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই। এর পেছনে রয়েছে ভারতের দূরদর্শী ‘এনার্জি ডিপ্লোম্যাসি’।
• রুট বদল: ভারত এখন আর কেবল হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল নয়। আগে এই পথ ছাড়া অন্য রুট দিয়ে আমদানি হতো ৬০% তেল, যা এখন বাড়িয়ে ৭০% করা হয়েছে।
• মজুত ভাণ্ডার: দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, যা যেকোনো দীর্ঘমেয়াদী সংকট মোকাবিলায় সক্ষম।
কেন বাড়ল গ্যাসের দাম? তরজায় কেন্দ্র-বিপক্ষ
বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম মার্চের শুরুতেই বেড়েছিল, কিন্তু শনিবার থেকে গার্হস্থ্য ব্যবহারের সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছে বিরোধী শিবির। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে সমাজমাধ্যমে কেন্দ্রকে নিশানা করে দাবি করেন, যুদ্ধের দোহাই দিয়ে সরকার পর্যাপ্ত সার ও জ্বালানি জোগাতে ব্যর্থ হচ্ছে।
যদিও সরকারি সূত্রের পালটা দাবি, রান্নার গ্যাসের এই মূল্যবৃদ্ধির সাথে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সরাসরি কোনো যোগ নেই। বরং এটি নিয়মিত দাম পর্যালোচনার অংশ। ভারতের এনার্জি বাকেট আগের চেয়ে অনেক বেশি বৈচিত্র্যময় হওয়ায় সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা নেই বলেই দাবি করা হচ্ছে।
