Gangarampur | হস্টেলে অবহেলা! ডায়ারিয়ায় ভুগে মৃত্যু খুদে পড়ুয়ার

Gangarampur | হস্টেলে অবহেলা! ডায়ারিয়ায় ভুগে মৃত্যু খুদে পড়ুয়ার

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


জয়ন্ত সরকার,গঙ্গারামপুর: ডায়ারিয়ার দরুন অসুস্থ অবস্থায় টানা ২ দিন হোস্টেলের বেডেই পড়েছিল দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী অনুশ্রী হেমরম (৮)। কিন্তু অভিযোগ, হোস্টেল কর্তৃপক্ষ সময়মতো তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়নি। আর তার জেরেই নাকি মৃত্যু হয় ওই খুদে পড়ুয়ার। এমনই অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুক্রবার তীব্র উত্তেজনা ছড়াল গঙ্গারামপুর শহরের রাজীবপুর খ্রীষ্ট রাজা প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে।

মৃত শিশুর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গঙ্গারামপুর ব্লকের পীরপালের বাসিন্দা রাজমিস্ত্রি সুজন হেমরমের মেয়ে অনুশ্রী গত ২ বছর ধরে শহরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের রাজীবপুর খ্রীষ্ট রাজা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হোস্টেলে থেকেই পড়াশোনা করছিল। ২ দিন আগে ডায়ারিয়ার প্রকোপে ওই পড়ুয়া ক্রমশ অসুস্থ হয়ে পড়ে। অভিযোগ, শারীরিক অবস্থা খারাপ হলেও হোস্টেল কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি। অসুস্থ শিশুকে হাসপাতালে না পাঠিয়ে, বেডেই শুয়ে থাকতে দেওয়া হয়।

শুক্রবার ভোরে অনুশ্রীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে তড়িঘড়ি পরিবারকে খবর দেওয়া হয়। তাঁর বাবা-মা ছুটে এসে শিশুটিকে গঙ্গারামপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে ভর্তির কিছুক্ষণ পরেই শিশুটি মারা যায়।

এরপরেই হোস্টেলের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়ে মৃত শিশুর পরিবার। তাঁরা প্রশ্ন তোলেন, কেন অসুস্থ অবস্থায় তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হল না? কেন সময়মতো পরিবারকে জানানো হয়নি? এ বিষয়ে মৃত শিশুর এক আত্মীয় আন্তনী টুডু বলেন, “আমাদের বাচ্চাটা যে অসুস্থ ছিল তা হোস্টেল থেকে আমাদেরকে খবর দেওয়া হয়নি। শেষ সময় আমাদেরকে যখন খবর দিয়েছে, তখন মেয়েকে আর বাঁচানো যায়নি। আমরা থানায় লিখিত অভিযোগ জানাবো।”

ঘটনা প্রসঙ্গে হোস্টেলের এক ওয়ার্ডেন অমৃতা সরেন জানান, “আমি গতকাল রাত্রে জানতে পেরেছি যে ও পায়খানা করছে। তারপরে সকালবেলা ওর বাড়ির মানুষকে জানানো হয়েছে। এর আগে ও বলেনি যে অসুস্থ। আমরাও বুঝতে পারিনি।”

ঘটনার দরুন শুক্রবার দুপুর ১টা নাগাদ হোস্টেল এবং স্কুল চত্বরে বিক্ষোভ শুরু হলে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে গঙ্গারামপুর থানার আইসি শান্তনু মিত্রের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশবাহিনী পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিকে এই বিক্ষোভের আবহেই পুলিশ জানতে পারে, মৃত পড়ুয়ার পাশাপাশি হোস্টেলে আরও ৩ ছাত্রী অসুস্থ অবস্থায় রয়েছে। অভিযোগ, ওই খুদে পড়ুয়ার মৃত্যুর পরেও তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়নি। পুলিশ তৎক্ষণাৎ ওই ৩ পড়ুয়াকে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করে।

এই ঘটনার পর হোস্টেলের অবহেলা এবং নজরদারির অভাব নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের প্রতি কেন এমন উদাসীনতা? ক্ষুদের পড়ুয়ার মৃত্যুর পরেও কেন অসুস্থ ৩ ছাত্রীকে বেডেই ফেলে রাখা হল? সব প্রশ্নের মুখে এখনও নীরব হোস্টেল কর্তৃপক্ষ ।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *