শিলিগুড়ি: দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাংকের ঋণের কিস্তি (Financial institution Mortgage Defaulter) মেটাতে না পারায় অবশেষে শিলিগুড়ির গুরুংবস্তির একটি তিনতলা বাড়ি ক্রোক করা হল। বুধবার প্রধাননগর থানার পুলিশের সহযোগিতায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ওই বাড়িটির দখল নেয়। ঋণের বোঝা এবং আইনি জটিলতার জেরেই এই চরম পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে।
ব্যাংক সূত্রের খবর, ২০১৬ সালের শেষ দিকে গুরুংবস্তির বাসিন্দা মঞ্জু শা ব্যাংক থেকে ৩০ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার লোন নিয়েছিলেন। তাঁর তিনতলা বাড়িটি জামানত হিসেবে রাখা ছিল। অভিযোগ, ২০১৮ সাল থেকে ঋণের কিস্তি দেওয়া বন্ধ করে দেন মঞ্জু। এরপর বারবার সুযোগ দেওয়া হলেও তিনি বকেয়া টাকা পরিশোধ করতে পারেননি। ফলে ২০২০ সালে তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্টটিকে ‘এনপিএ’ (নন পারফর্মিং অ্যাসেট) হিসেবে ঘোষণা করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
ব্যাংকের আইনজীবী প্রভাত ঝা জানান, বকেয়া টাকা আদায় না হওয়ায় আইনি পথে হাঁটে ব্যাংক। গত ২৮ জানুয়ারি ওই বাড়িতে নোটিশ পাঠিয়ে ‘সিম্বলিক পজিশন’ নেওয়া হয়েছিল। এরপর ২ ফেব্রুয়ারি শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে মামলা করা হলে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি আদালত বাড়িটি ক্রোক করার চূড়ান্ত নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশ মেনেই এদিন প্রধাননগর থানার পুলিশের বিশাল বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে বাড়িটি ক্রোক করা হয়।
বকেয়া কিস্তি পরিশোধ না হওয়ায় তিনতলা বাড়িটি হাতছাড়া হল মঞ্জু শা-র। তবে এই বিষয়ে বাড়ির মালিক বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। পুলিশ ও ব্যাংকের আধিকারিকরা এদিন বাড়িতে পৌঁছে প্রয়োজনীয় নথিপত্র খতিয়ে দেখে সিলগালা করার কাজ সম্পন্ন করেন।
