Feminine Prayer Eid | সামসীতে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ! ভগবানপুর ইদগাহে প্রথমবার মহিলাদের জন্য পৃথক ইদের নমাজের ব্যবস্থা

Feminine Prayer Eid | সামসীতে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ! ভগবানপুর ইদগাহে প্রথমবার মহিলাদের জন্য পৃথক ইদের নমাজের ব্যবস্থা

ব্লগ/BLOG
Spread the love


সামসী: শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্য আর আধুনিক মানসিকতার মেলবন্ধনে এক অনন্য নজির গড়ল মালদার (Malda) সামসীর ভগবানপুর ইদগাহ ময়দান। প্রায় ১০টি গ্রামের বাসিন্দারা যেখানে প্রতি বছর ইদের নমাজ আদায় করেন, সেই ইদগাহে এবারই প্রথম মহিলাদের (Feminine Prayer Eid) জন্য পৃথকভাবে নমাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ধর্মীয় অনুশাসন মেনে মহিলাদের এই সক্রিয় অংশগ্রহণকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।

ইদগাহ কমিটির তরফে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইদগাহ সংলগ্ন উত্তর ও পূর্ব দিকের ফাঁকা জায়গায় সামিয়ানা টাঙিয়ে মহিলাদের জন্য সুরক্ষিত ও পৃথক স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থানীয় মহিলারা নিজেরাই উৎসাহভরে সেই জায়গা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজে হাত লাগিয়েছেন।

ইদগাহের ইমাম মওলানা আব্দুর রশিদ জানান, পরিকাঠামোগত সমস্যার কারণে এতদিন মহিলাদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। তবে এবার সর্বসম্মতভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবার সকাল সোয়া সাতটায় ইদের (Eid al-Fitr 2026) নমাজের মূল জামাত অনুষ্ঠিত হবে। আপাতত ভগবানপুর গ্রামের মহিলারা এই জামাতে অংশ নেবেন, তবে ভবিষ্যতে পার্শ্ববর্তী ১০টি গ্রামের মহিলারাও যাতে অংশ নিতে পারেন, সেই লক্ষ্যে স্থায়ী পরিকাঠামো গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে কমিটির। ইদগাহ কমিটির সভাপতি আব্দুল মান্নান বলেন, এটি আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। বহুদিনের ইচ্ছা এবার পূরণ হলো। ভবিষ্যতে আরও স্থায়ী ও বিস্তৃত ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা থাকবে।

এই সিদ্ধান্তে উচ্ছ্বসিত এলাকার প্রবীণ থেকে নবীন— সব বয়সের মহিলারাই। ৬৫ বছর বয়সী সাজনুর বিবি আবেগের সুরে বলেন, “এতদিন শুধু পুরুষদের ইদগাহে যেতে দেখতাম। এবার আল্লাহর রহমতে আমরাও সুযোগ পাচ্ছি, এটা ভাবতেই ভালো লাগছে।” তরুণী ফারিদা খাতুনের মতে, এই উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের মেয়েদের ধর্মীয় চর্চায় আরও উৎসাহিত করবে। ভগবানপুর গ্রামের বাসিন্দা মওলানা মুনসুর রহমানও এই পদক্ষেপকে শরীয়ত মোতাবেক এবং ইতিবাচক বলে বর্ণনা করেছেন। সব মিলিয়ে, ভগবানপুর ইদগাহের এই উদ্যোগ কেবল ধর্মীয় আচার নয়, বরং সামাজিক ঐক্যের এক নতুন ইতিহাস রচনা করল।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *