ভাস্কর শর্মা, ফালাকাটা: ফালাকাটা শহরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায়গুলিতে শৌচালয় তৈরি করছে পুরসভা (Falakata)। ইতিমধ্যে শৌচালয়গুলি তৈরির ৬০ শতাংশ কাজ হয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি শহরের স্কুল এবং কলেজে শৌচালয় তৈরি করা হবে। দুটি বিষয়ে আগেই পুরসভার বোর্ড মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। স্কুল এবং শহরকে নির্মল রাখতেই এই উদ্যোগ বলে পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে। পুরসভার এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন শহরের বাসিন্দারা।
ফালাকাটা পুরসভার চেয়ারম্যান প্রদীপ মুহুরি বলেছেন, ‘শহরের গুরুত্বপূর্ণ ৫টি জায়গায় আমরা শৌচালয় নির্মাণ করছি। একেকটি তৈরি করতে খরচ পড়ছে ১৩ লক্ষ টাকা করে। পাশাপাশি আমরা শহরের ৫টি হাইস্কুল, ফালাকাটা কলেজেও শৌচালয় তৈরি করব। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি থেকে এনওসি পাওয়া গিয়েছে। দ্রুত অর্থবরাদ্দ করে কাজ শুরু করব।’
ফালাকাটা পুরসভা জানিয়েছে, পুর এলাকায় ২৫টি প্রাথমিক স্কুল রয়েছে। আর হাইস্কুল ও জুনিয়ার হাইস্কুল রয়েছে যথাক্রমে ৫টি ও ১টি। এই ৩১টি স্কুলে শৌচালয়গুলির অবস্থা তেমন একটা ভালো নয়। প্রায় বেশিরভাগ স্কুলের বাথরুমই ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। কোথাও শৌচালয় ভেঙে পড়েছে, তো কোথাও নোংরার জন্য বাথরুমের ভেতর ঢোকাই দায়। মেয়েদের স্কুলের বাথরুমগুলির অবস্থা আরও করুণ। বিভিন্ন স্কুল থেকে এজন্য পুরসভাকে বহুবার জানানো হয়েছিল। তাই বোর্ড মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে স্কুলগুলিতে শৌচালয় নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নেয় পুরসভা। পাশাপাশি ফালাকাটা কলেজে ছাত্রছাত্রীদের সুবিধার জন্যও গড়া হবে শৌচালয়। পুরসভার এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে ফালাকাটা শহরের বিভিন্ন স্কুল কর্তৃপক্ষ।
ফালাকাটা সুভাষ গার্লস হাইস্কুলের টিচার ইনচার্জ অমৃতা মুখুটির কথায়, ‘আমাদের স্কুলে ছাত্রীর সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু সেই তুলনায় বাথরুমের সংখ্যা কম। তাই পুরসভা যদি স্কুলে শৌচালয় নির্মাণ করে দেয় তাহলে সুবিধা হবে।’
সারাদিন ব্যবসায়িক কাজে দোকানেই থাকতে হয় বিট্টু সাহাকে। কখনও বাথরুমে যেতে হলে তার ব্যবস্থা নেই বলে হতাশা প্রকাশ করলেন তিনি। এই অবস্থায় ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের কথা ভেবে শহরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিতে পুরসভা শৌচালয় বানালে সবার সুবিধা হয় বলে মত তাঁর।
মিশন নির্মল বাংলা প্রকল্পে রাজ্যজুড়ে উন্মুক্ত শৌচকর্ম বন্ধ করতে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার। পুর দপ্তরও রাজ্যের সব পুরসভাকে সেভাবেই নির্দেশ দিয়েছে। এর পরেই ফালাকাটা পুরসভা এলাকায় উন্মুক্ত স্থানে শৌচকর্ম বন্ধ করতে উদ্যোগী হয়েছে। এজন্য শহরের স্কুলগুলির পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও কমিউনিটি টয়লেট বানানোর সিদ্ধান্ত নেয় পুরসভা।
পুরসভা জানিয়েছে, ফালাকাটা সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালের সামনে, পোস্ট অফিস মাঠের পাশে ২টি, পার্কের পাশে ১টি এবং অপর একটি থানার সামনে বানানোর কাজ চলছে। পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার অভিজিৎ রায় জানান, ৫টির মধ্যে ৪টি কমিউনিটি টয়লেট তাঁর ওয়ার্ডেই বানানো হচ্ছে। এই টয়লেটগুলি দেখভালের জন্য কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্বও দেওয়া হবে। ইউজ অ্যান্ড পে টয়লেটগুলি হলে শহরের ব্যবসায়ী থেকে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষের উপকার হবে বলে জানান তিনি।
