অভিজিৎ ঘোষ, আলিপুরদুয়ার: আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসনিক ভবন ডুয়ার্সকন্যা (Dooars Kanya)। জেলার সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। যেখান থেকে গোটা জেলার প্রশাসনিক কাজকর্ম চলে। পাশেই জেলা পুলিশ সুপারের অফিস। সেখান থেকে জেলার আইনশৃঙ্খলা দেখা হয়। আর ডুয়ার্সকন্যা থেকে দুশো মিটার দূরেই তৈরি হয়েছে ঝাঁ চকচকে জেলা আদালত ভবন। সব মিলিয়ে প্যারেড গ্রাউন্ডের সামনে তিনশো মিটারের মধ্যে থেকেই জেলা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। আর এই তিনশো মিটারের মধ্যেই অবৈধভাবে দখলদারি (Encroachment) হয়ে আসছে দীর্ঘদিন থেকে। সরকারি জায়গা দখল করে চলছে ব্যবসা। কেউ খাবারের দোকান দিয়ে বসেছেন। কেউ খুলেছেন ফোটোকপির দোকান। কারও বা সরকারি কাজ করিয়ে দেওয়ার ঠেক।
এই ঠেকগুলো থেকে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কাজ করিয়ে দেওয়া হয়। সরকারি বিভিন্ন জায়গা দখল করেই দোকান খুলে এই কাজকর্ম চলছে বলে অভিযোগ। প্রশাসনের এই নিয়ে তেমন কোনও হেলদোল নেই। মাঝেমধ্যে অবৈধ দখলদারি সরাতে অভিযান চালানো হলেও বিগত ছয় মাসের বেশি সময়ের মধ্যে কোনও অভিযান ওই চত্বরে হয়নি বলেই অভিযোগ। অন্যদিকে প্রশাসনের একটা মহল বলছে, এসআইআর-এর কাজের জন্য অনেকেই ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তবে জেলা প্রশাসনের শীর্ষকর্তারা সেটা মানছেন না। আলিপুরদুয়ারের অতিরিক্ত জেলা শাসক অরবিন্দ ঘোষের কথায়, ‘প্রতি মাসেই তো অভিযান হওয়ার কথা। যে দপ্তর থেকে অভিযান করা হয় তাদের এসআইআর-এর কাজে যুক্ত করা হয়নি। অভিযান হতেই পারে।’
আলিপুরদুয়ার জেলা শুধু নয়, শহরের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এই রকম দখলদারি নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠছে। এই যেমন জেলা আদালতের যে ভবন হয়েছে সেটার দেওয়াল ঘেঁষেই দেখা গেল দখলদারি। অন্যদিকে বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের সামনে, মহকুমা শাসকের দপ্তরের সামনেও দখলদারি অনেকটাই বেড়েছে। ওই চত্বরে খোঁজ করে দেখা গেল দখলদারি করার কাজ চলছে নির্দিষ্ট নিয়মে। প্রথমে ঠ্যালা নিয়ে বসে ব্যবসা শুরু করা হয়। এরপর ছোট ত্রিপল টাঙিয়ে ব্যবসা শুরু হয়। এরপর সেখানেই হয়ে যায় স্থায়ী নির্মাণ। বেশ কয়েকজন ওই চত্বরে এইভাবে জায়গা দখল করে স্থায়ী দোকান তৈরি করে বসেছেন। দখলদারির এমনই হিড়িক যে নর্দমার উপরও চলছে ব্যবসা। দখল করে ব্যবসা করায় ঠেলাঠেলির এমন অবস্থা যে খদ্দেররা কোন জায়গায় বসবেন সেটারও চিন্তা করা হয় না।
ডুয়ার্সকন্যার সামনে সৃষ্টিশ্রী স্টল চালু করেছিল জেলা প্রশাসন। সেখানে বিভিন্ন রকম খাবারের স্টলও ছিল। তবে এই অবৈধভাবে ব্যবসা করার চাপে ওই স্টলে বিক্রি নেই। অন্যদিকে, ওই চত্বরে যাঁরা জায়গা দখল করে ব্যবসা করছেন তাঁদের আবার দাবি, অন্য জায়গায় দোকান করলে ভালো বিক্রি হয় না। ব্যবসা করার জন্য ডুয়ার্সকন্যার পাশে হকার্স জোন দাবি করা হচ্ছে। সরকারি কোনও জায়গা দেওয়া হলে দখলদারি অনেকটাই কমবে বলে মত অনেকের।
