উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: আমরা অনেকেই জানি ইলোরা (Ellora) একটি ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট। কিন্তু আপনি কি জানেন, আধুনিক ইঞ্জিনিয়াররা আজও বিশ্বাস করতে পারেন না যে অষ্টম শতাব্দীতে মানুষের পক্ষে এই মন্দির তৈরি করা সম্ভব ছিল?
আসুন, শুনে নেওয়া যাক কৈলাস মন্দিরের সেই হাড়হিম করা অফবিট কাহিনি, যা আপনাকে ভাবতে বাধ্য করবে—এটা কি সত্যিই মানুষের কীর্তি?
১. উল্টো নির্মাণের ধাঁধাঁ (The Prime-Down Thriller)
সাধারণত যেকোনো ইমারত নীচ থেকে ওপরের দিকে তৈরি হয়। কিন্তু কৈলাস মন্দির তৈরি হয়েছে ওপর থেকে নীচে (Prime to Backside)।
পুরো মন্দিরটি কোনো আলাদা পাথর জোড়া দিয়ে তৈরি নয়। একটি বিশাল আস্ত পাহাড় বা ‘মনোলিথ’ (Monolith) ওপর থেকে কাটতে কাটতে নীচে নামা হয়েছে।
রহস্য: সেই যুগে কোনো কম্পিউটার বা 3D মডেলিং ছাড়াই, ওপর থেকে পাথর কেটে নীচে নামার সময় নিখুঁত ম্যাপ তারা কীভাবে মাথায় রেখেছিলেন? এক ইঞ্চি ভুল হলে পুরো মন্দির ধসে পড়ত!
প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, এই মন্দির তৈরি করতে পাহাড় থেকে প্রায় ৪ লক্ষ টন পাথর কেটে সরাতে হয়েছিল।
বলা হয়, এই মন্দির তৈরি করতে সময় লেগেছিল ১৮ বছর।
অঙ্ক কষলে দাঁড়ায়: ১৮ বছর ধরে প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা কাজ করলেও, প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৫ টন পাথর কেটে, নীচে নামিয়ে, এলাকা থেকে সরাতে হতো। হাতুড়ি আর ছেনি দিয়ে এটা কি আদৌ সম্ভব?
সবচেয়ে বড় রহস্য: ওই ৪ লক্ষ টন পাথরের ধ্বংসাবশেষ (Particles) মন্দিরের আশেপাশের ১০০ মাইলের মধ্যে কোথাও পাওয়া যায়নি! এত পাথর হাওয়ায় মিলিয়ে গেল কী করে? নাকি কোনো ‘লেজার টেকনোলজি’ দিয়ে পাথর বাষ্প করে দেওয়া হয়েছিল?
৩. আওরঙ্গজেবের ব্যর্থ মিশন
মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব একসময় হিন্দু মন্দির ধ্বংস করার অভিযানে নেমেছিলেন। ১৬৮২ সালে তিনি কৈলাস মন্দির ধ্বংস করার জন্য তাঁর বিশাল সেনাবাহিনী পাঠান। টানা ৩ বছর ধরে ১০০০ মানুষ চেষ্টা করেও মন্দিরটির বিন্দুমাত্র ক্ষতি করতে পারেনি। তারা শুধু কিছু মূর্তির মুখ বিকৃত করতে পেরেছিল, কিন্তু মূল কাঠামো ভাঙা অসম্ভব ছিল।
অবশেষে আওরঙ্গজেব হার মেনে পিছু হটতে বাধ্য হন। যেই মন্দির আধুনিক ডিনামাইট ছাড়া ভাঙা সম্ভব নয়, তা সেই যুগে মানুষ হাতে বানাল কী করে?
৪. মাটির নীচের নিষিদ্ধ জগত
কৈলাস মন্দিরের নীচে এমন অনেক সুড়ঙ্গ বা টানেল আছে যা এখন জনসাধারণের জন্য বন্ধ। লোককথা অনুযায়ী, এই মন্দিরের নীচে একটি আন্ডারগ্রাউন্ড সিটি বা মাটির নীচের শহর ছিল। কিছু কন্সপিরেসি থিওরি বলে, এই মন্দিরে এমন কিছু ভেন্টিলেশন শ্যাফট (Air flow Shaft) আছে যা এত সরু যে মানুষ প্রবেশ করতে পারবে না, কিন্তু বাতাস চলাচলের জন্য নিখুঁত।
