খোকন সাহা, বাগডোগরা: মঙ্গলবার সকালে একটি হাতির মৃতদেহ (Elephant Dying in Nepal) পাওয়া যায় নেপালের কৃষিজমিতে। তবে নেপালে পূর্ণবয়স্ক ওই মর্দা মাকনাটির মৃত্যু ঠিক কী কারণে হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট হয়নি। বিদ্যুতের তারে শক লেগে হাতিটির মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। যদিও ভারতের পরিবেশপ্রেমী সংগঠনগুলির দাবি, নেপালে ওই হাতিটিকে খুন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে পূর্ব নেপালের ঝাপা জেলার (Jhapa District) বুদ্ধ শান্তি ৩ নম্বর মেচিনগরে কৃষিজমিতে হাতিটির মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর পূর্ব নেপালের ঝাপা জেলায় একটি পূর্ণবয়স্ক মাদি হাতির মৃত্যু হয়েছিল ধানখেতের মধ্যে বিদ্যুতের তারে শক লেগে। এদিন যে হাতিটির (Elephant Dying) মৃত্যু হয়, সেটির দেহও কৃষিজমিতে পাওয়া গিয়েছে।
ভারতের পশুপ্রেমী সংগঠন ঐরাবতের কোঅর্ডিনেটর অভিযান সাহা আশঙ্কা করছেন, মর্দা মাকনাটিকে খুনই করা হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘বছরের শুরুতেই দুধিয়ায় বালাসন সেতুর নীচে একটি চিতাবাঘের দেহ উদ্ধার করা হয়। এরপরে আজ নেপালে হাতির দেহ পাওয়া গেল। নতুন বছরে পরপর দুটি মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। গত বছরই পঁাচটি হাতির মৃত্যু হয়েছে নেপালে। সবগুলিকেই খুন করা হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, নেপালে গত বছর পাঁচটি হাতির মৃত্যু হয়েছে। আর ২০২৪ সালে চারটি হাতির মৃত্যু হয়েছে। এবার বছরের শুরুতেই একটির মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। লক্ষণীয়ভাবে সবগুলি হাতির মৃত্যুই নেপালের ঝাপা জেলার মধ্যে হয়েছে। শুধু তাই নয়, সবগুলিকেই ‘খুন’ করা হয়েছে বলে দুই দেশের পশুপ্রেমীরা আশঙ্কা করছেন।
নেচার অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক অনুজিৎ বসুর কথায়, ‘ওই হাতিটি স্থানীয়দের কাছে আলফা নামে পরিচিত ছিল। ওই হাতিটিকে দিনকয়েক আগে ভারতের মেচি নদীর কাছে ঘুরে বেড়াতে দেখা গিয়েছে। এভাবে নেপালে বারবার হাতির মৃত্যু কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সেখানকার সরকার, বন বিভাগ এখনও পর্যন্ত সেখানকার মানুষের মধ্যে হাতির প্রতি সচেতনতা বাড়াতে সক্ষম হয়নি বলেই এই ধরনের ঘটনা ঘটছে।’
যদিও এ বিষয়ে কার্সিয়াং বন বিভাগের ডিএফও দেবেশ পান্ডে বলেন, ‘আজকে যে হাতির দেহ পাওয়া গিয়েছে, সেটির মৃত্যুর কারণ এখনও জানা যায়নি। খোঁজ নিয়ে তবেই বলতে পারব।’ যদিও এই হাতিটিকেই দিনকয়েক আগে ভারতে মেচি নদীর কাছে ঘুরে বেড়াতে দেখা গিয়েছিল কি না, সে বিষয়ে কিছু বলতে চাননি তিনি।
