দুর্গাপুর: ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে (Durgapur Freeway Theft) পুলিশ সেজে গাড়ি থামিয়ে ব্যবসায়ীর ১ কোটি ১ লক্ষ টাকা লুটের ঘটনায় শেষ রক্ষা হল না মূল অভিযুক্ত পৃথ্বীরাজ ওসওয়ালের। প্রায় দুই বছর ধরে নেপাল ও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পালিয়ে বেড়ানোর পর অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়ল সে। ১১ মার্চ দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তার ৫ দিনের সিআইডি হেপাজত মঞ্জুর করেছেন।
২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিট নাগাদ দুর্গাপুর থানার পিয়ালা কালীমন্দিরের কাছে দিল্লির ব্যবসায়ী মুকেশ চাওলার গাড়ি আটকানো হয়। রূপনারায়ণপুর থেকে কলকাতায় বিপুল টাকা নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। অভিযোগ, পুলিশের গাড়ি ও পোশাক ব্যবহার করে এই দুঃসাহসিক লুটপাট চালানো হয়েছিল, যা গোটা জেলা প্রশাসনকে অস্বস্তিতে ফেলে দেয়।
তদন্তে নেমে সিআইডি ও পুলিশ দেখে, এই ষড়যন্ত্রের জাল ছড়িয়ে ছিল প্রশাসনের অন্দরেও। একে একে গ্রেপ্তার করা হয়, দুর্গাপুর থানার এএসআই অসীম চক্রবর্তী, সিআইডি বোম স্কোয়াডের জওয়ান চন্দন চৌধুরী, ডিআইবি বিভাগের বরখাস্ত অফিসার মৃত্যুঞ্জয় সরকারকে। এছাড়াও দুর্গাপুর, সালানপুর, উত্তরপ্রদেশ ও রাঁচি থেকে এই চক্রের আরও ১১ জন সদস্যকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিল রূপনারায়ণপুরের পিঠাকিয়ারির বাসিন্দা পৃথ্বীরাজ ওসওয়াল। মাঝখানে সে ভারত ছেড়ে নেপালে আত্মগোপন করেছিল বলে খবর। আগ্নেয়াস্ত্র রাখার দায়ে তার স্ত্রীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও পুলিশের নাগালে আসছিল না সে। কলকাতা হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পর সিআইডির চাপে পড়ে শেষমেশ গত ১১ মার্চ আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয় সে।
পুলিশ ইতিমধ্যেই পৃথ্বীরাজের একাধিক ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছে। রূপনারায়ণপুরের পিঠাকিয়ারিতে তার বিশাল বাড়িটি ক্রোক করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। সিআইডির দাবি, পৃথ্বীরাজকে জেরা করে এই লুটকাণ্ডের বাকি অভিযুক্তদের হদিশ এবং লুটের টাকার বাকি অংশের খোঁজ পাওয়া সম্ভব হবে।
