শুভজিৎ দত্ত, নাগরাকাটা: এখানে দুর্গামণ্ডপে দেবীর আরাধনা হয়। আবার লাগোয়া ইদগাহ ময়দান থেকে ভেসে আসে আজানের সুরও। জাত-ধর্মের চোখরাঙানিকে উড়িয়ে দিয়ে সুলকাপাড়ার পুজো প্রকৃত অর্থেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। শুধু কথায় নয়, বহুদিন ধরে কাজেও তার প্রমাণ দিচ্ছেন এলাকার বাসিন্দারা। এলাকার দয়াময়ী কালী মন্দিরের স্থায়ী দুর্গামণ্ডপের পুজো এবার ৭০তম বর্ষে পা দিল (Durga Puja 2025)। জগন্নাথ বসু নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘উমাকে বরণের জন্য আমরা সবাই বছরভর অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকি। এবারও উৎসাহ উদ্দীপনায় ভাটা পড়েনি।’
সুলকাপাড়া অঞ্চল আঞ্জুমান সমিতির সম্পাদক মোমেতুল হক বলেন, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। সুলকাপাড়ার বাসিন্দারা বরাবর এই নীতিতেই বিশ্বাসী। এখানকার ঐতিহ্যই হল সাম্প্রদায়িকতার টানাপোড়েন ভুলে সম্প্রীতির বন্ধন আরও শক্ত করে যাওয়া। এখানে ইদ যেমন সকলের, শারদোৎসবও সকলের। কালী মন্দিরের দুর্গাপুজোয় আমরাও চাঁদা দিই। সবরকম সহযোগিতা করার জন্য প্রস্তুত থাকি।’ আঞ্জুমান সমিতির আরেক কর্তা মজিবর রহমানের কথায়, ‘উৎসব, আনন্দ সকলের। আমরাই বা দূরে থাকব কেন? কোনওরকম বিভাজন নয়, একতাই আমাদের মূল সুর। এতে কারও চোখরাঙানি নেই। এটাই এখানকার ট্র্যাডিশন।’
ইতিহাস বলছে, সুলকাপাড়া জলপাইগুড়ি জেলার অন্যতম প্রাচীন একটি জনপদ। একসময় সুলকাপাড়াতেই নাগরাকাটা বিডিও অফিস ছিল। ডুয়ার্স যখন ভুটানের আওতাধীন ছিল, সেসময় গোটা নাগরাকাটা এলাকার খাজনা সংগ্রহের দায়িত্ব ছিল সেখানকার সোলকা মেচ নামে এক ব্যক্তির। সম্ভবত তাঁর নামেই ক্রমে ওই এলাকাটির নাম সুলকাপাড়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার নানা ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে এই পুজোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে। এদিন অনলাইনে পুজোর উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নাগরাকাটার বিডিও পঙ্কজ কোনার, নাগরাকাটা থানার আইসি কৌশিক কর্মকার, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সঞ্জয় কুজুর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। পুজো কমিটির সম্পাদক শ্বেতে লামা বলেন, ‘আমাদের পুজো মানে মিলনমেলা। এলাকার সবাই পুজোর আয়োজনে সাধ্যমতো সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।’
