দেবদর্শন চন্দ, কোচবিহার: রীতি মেনে সোমবার থেকে শুরু হয়ে গেল কোচবিহারের (Cooch Behar) ভট্টাচার্যবাড়ির দুর্গাপুজো। পরিবারের নিজস্ব তালপাতার পুঁথি পড়ে ৩৬১ বছর ধরে একই নিয়মে পুজো হয়ে আসছে। পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ অর্থাৎ তন্ত্রধারকের উচ্চারিত মন্ত্র শুনে পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণের মধ্যে দিয়ে পুজো হয়। গতবছরের মতো এবছরও পুজোয় (Durga Puja 2025) তন্ত্রধারণ করবেন পরিবারের সদস্য দুলাল ভট্টাচার্য।
কোচবিহারের পারিবারিক পুজোগুলির মধ্যে ধর্মতলার রামেন্দ্র ভবনের ভট্টাচার্যবাড়ির পুজো অন্যতম এবং পুরোনো। এই পরিবারের পুজোর শুরুটা ওপার বাংলার রংপুর জেলার তবকপুর গ্রামে হলেও এখনও একইভাবে প্রতিপদ থেকে দশমী পর্যন্ত এই পুজো হয়ে আসছে। বাড়ির প্রবীণ সদস্য কল্যাণ ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমাদের পরিবারের নিজস্ব তালপাতার পুঁথি রয়েছে। রীতি মেনে সেই তালপাতার পুঁথিতে লেখা মন্ত্রোচ্চারণের মধ্যে দিয়ে দেবীর আরাধনা করা হয়।’
একান্নবর্তী পরিবারের পুজো মানেই জমিয়ে আড্ডা এবং আনন্দ। ভট্টাচার্যবাড়ির ছবিটাও একই। প্রতিবছর পুজোর এই কয়েকটা দিনের অপেক্ষা করেন পরিবারের সদস্যরা। বিভিন্ন জায়গার আত্মীয়রা পুজোর বিশেষ দিনগুলিতে একসঙ্গে মিলিত হন। নিয়ম মেনে প্রতিবার জন্মাষ্টমীতে বাড়ির ঠাকুর বায়না দেওয়া হয়। মহালয়ার পরের দিন অর্থাৎ প্রতিপদে পুজোর ঘট স্থাপন করা হয়। সোমবার সেইমতো ঘট স্থাপন করে পুজোর শুরু হয়ে গেল। ভট্টাচার্যবাড়ির দেবী অতসীপুষ্পবর্ণা। ষষ্ঠীতে কুমোরটুলি থেকে আনা হয় একচালার প্রতিমা। বাড়ির স্থায়ী মন্দিরে পুজোর আয়োজন করা হয়। পুজোয় প্রতিদিনই ভোগ দেওয়া হয়। প্রতিপদ থেকে নবমী পর্যন্ত প্রতিদিন দেবীর নয় রূপের চণ্ডীপাঠ এবং ঘটপুজো হয়। নিয়মরীতি মেনে পুজোয় সপ্তমী থেকে নবমী পর্যন্ত দেবীকে বোয়াল কিংবা শোল কিংবা পুঁটি মাছ দিয়ে ভোগ দেওয়া হয়। পাশাপাশি পঞ্চব্যঞ্জন সহযোগে ভোগও দেওয়া হয়।
ভট্টাচার্য পরিবারের সদস্যরা জানালেন, পরিবারে সবমিলিয়ে জনা পঞ্চাশেক সদস্য রয়েছেন। পরিবারের সদস্যদের কারা কবে সবজি কাটবেন কিংবা কে প্রসাদ বিতরণ করবেন, সেই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। পুজোয় পাঁঠাবলির প্রচলন থাকলেও করোনার সময় থেকে পাঁঠাবলির পরিবর্তে একজোড়া পায়রা দেবীকে উৎসর্গ করা হয়। তারপর সেগুলোকে উড়িয়ে দেওয়া হয়। দশমীতে বিসর্জনের আগে দেবীকে লুচি এবং সুজি ভোগ দেওয়া হয়। এরপর বিভিন্ন আচার মেনে সিঁদুরখেলা, আরতির পর রাজমাতাদিঘিতে দেবীর বিসর্জন হয়।বিসর্জনের পর মন্দিরের সামনে উঠোনে কলা গাছ পোঁতা হয়। সেখানে পরিবারের সকল সদস্য এসে বসেন। এরপর সোনা, রুপা, লোহা, প্রদীপ, চামর, শ্বেতচন্দন, কাটারি ইত্যাদি পরিবারের সদস্যদের মাথায় ছোঁয়ান পুরোহিত।
