Durga Puja 2025 | ওপার বাংলার স্মৃতি

Durga Puja 2025 | ওপার বাংলার স্মৃতি

শিক্ষা
Spread the love


প্রণব সূত্রধর, আলিপুরদুয়ার: বদলেছে সময়, বদলেছে দেশ। কিন্তু পুজোর রীতি এখনও বদলায়নি আলিপুরদুয়ার (Alipurduar) শহরের জামতলা এলাকার গঙ্গোপাধ্যায় বাড়িতে। কয়েক শতাব্দী ধরে একই নিয়ম-রীতি মেনে দুর্গাপুজো (Durga Puja 2025) হয় এখানে। বাংলাদেশের ফরিদপুরের মাদারিপুর সাব-ডিভিশনের মহিষার গ্রামে এই পুজোর সূচনা করেন হরচরণ গঙ্গোপাধ্যায়।

সেই স্মৃতি ধরে রাখতে এখনও একই কাঠামোতে এই পুজোর প্রতিমা তৈরি করা হয়। একচালার সেই প্রতিমার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। দেবী দুর্গার ডানদিকে থাকে কার্তিক ও লক্ষ্মী আর বামদিকে সরস্বতী ও গণেশ। যেখানে সাধারণত লক্ষ্মী-গণেশ ও সরস্বতী-কার্তিক একসঙ্গে থাকে।

পরিবারের তরফে সুব্রত গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘প্রায় সাড়ে তিনশো বছর ধরে একই নিয়মরীতি মেনে পুজো হচ্ছে। পুজোতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। সেখানে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রতিবেশীরাও অংশ নেন।’

গঙ্গোপাধ্যায় পরিবারের সদস্যরা জানান, আনুমানিক ১৬৬০ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশের ফরিদপুরে এই পুজোর শুরু। একসময় পরবর্তী প্রজন্মের প্রয়াত উমাচরণ গঙ্গোপাধ্যায় ভাগ্যান্বেষণে আলিপুরদুয়ারের উদ্দেশে যাত্রা করেন। সেসময় আলিপুরদুয়ার থেকেই বাংলাদেশের পুজোতে অংশ নিতেন তাঁরা। এরপর ১৯১১ সাল নাগাদ আলিপুরদুয়ার জামতলা এলাকায় পুজো শুরু হয়। একসময় এই পুজোয় মহিষবলির প্রচলন ছিল। ১৯২৯ সাল থেকে সেই মহিষবলি একেবারে বন্ধ করা হয়। তার বদলে এখন হাড়িকাঠে শত্রুবলি হয়। চালের গুঁড়ো, কাঠকয়লা, হলুদ দিয়ে মানকচু পাতার ওপর মূর্তির আদলে একটি অবয়ব তৈরি করে বংশের বয়োজ্যেষ্ঠ সেটি বলি দেন।

ষষ্ঠীর দিন বিশেষ রীতি মেনে দেবীর বোধনের আগে পলাশবাড়ি শান্তিধাম আশ্রম থেকে নারায়ণ শিলা আনা হয়। পুজোর কয়েকদিন দেবী দুর্গার সঙ্গে পূজিত হন নারায়ণ শিলা। দশমীর পর আবার শান্তিধাম আশ্রমে নারায়ণ শিলা নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর সেখানেই সারাবছর পূজিত হন।

দেবীকে পুরাণ ও শাক্তমতে পুজোতে মাছ ভোগ দেওয়া হয়। তবে ইলিশ মাছই প্রধান, নবমীর দিন ইলিশ মাছের ভোগ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। বিজয় দশমীর পর থেকে সরস্বতীপুজোর আগে পর্যন্ত পরিবারের সদস্যদের ইলিশ মাছ খাওয়ার রীতি নেই। পুজোয় পুরোহিতকে বিশেষ শাড়ি উপহার দেওয়া হয়।

বিসর্জনের জন্য প্রতিমা কাঁধে করে নিয়ে যাওয়া হয়। মন্দির থেকে কালজানি ঘাট পর্যন্ত যেতে সাত জায়গাতে সাতবার প্রতিমা নামানো হয়। প্রতিবার প্রতিমা কাঁধ থেকে নামানোর পর তিনপাক ঘোরানো হয়ে থাকে। দিনেরবেলাতে বিসর্জন পর্ব চলে। বিসর্জনের পর কাঠামো নদী থেকে তুলে মন্দিরে নিয়ে যায় স্থানীয় একটি পরিবার। স্থায়ী মন্দিরে জন্মাষ্টমীর দিন প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয়। মৃৎশিল্পীর পরিবারও ফরিদপুর থেকে গঙ্গোপাধ্যায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলিপুরদুয়ারে চলে আসেন। বংশপরম্পরায় তাঁরাই এই প্রতিমা তৈরি করে চলেছেন। পরিবারের আরেক সদস্য অমিতাভ গঙ্গোপাধ্যায়ের কথায়, ‘পুজোতে আত্মীয়স্বজনদের পুনর্মিলন হয়। দেশ-বিদেশের আত্মীয়রা পুজোতে ফিরে আসেন।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *