বাণীব্রত চক্রবর্তী, ময়নাগুড়ি: পুজোর বাকি আর কয়েকদিন (Durga Puja 2025)। আর সেজন্য কুমোরটুলি থেকে শুরু করে পুজো উদ্যোক্তাদের মধ্যে ব্যস্ততা তুঙ্গে। আর সেই ব্যস্ততাই দেখা গেল ময়নাগুড়ি দেবীনগর সানরাইজ ক্লাবের পুজো উদ্যোক্তাদের মধ্যে। লোহা, বাঁশের বাতা ও বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ‘আগমনী’ থিমেই সেজে উঠছে তাঁদের পুজোমণ্ডপ। মালদা, নবদ্বীপ ও কাটোয়ার শিল্পীরা মণ্ডপসজ্জার কাজ করছেন। নিপুণ হস্তশিল্পের নানা ছবি ফুটিয়ে তোলা হবে মণ্ডপসজ্জায়। পুরো পুজোমণ্ডপটাই যেন আস্ত একটা আগমনীর বার্তা নিয়ে এসেছে বলে মনে হবে দর্শনার্থীদের।
শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ড দেবীনগরপাড়ার এটাই আবেগের পুজো বাসিন্দাদের কাছে। এবার ৭৩তম বর্ষে তাঁদের পুজো। বারোয়ারি পুজো হলেও এ যেন গোটা পাড়ার পারিবারিক পুজোর মতো মনে হয়। পুজোর সপ্তমী থেকে টানা তিনদিন নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন উদ্যোক্তারা। ওডিশার একটি জনপ্রিয় ব্যান্ড থাকবে এবার। থাকবে মনোরঞ্জনের জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রদর্শনী। শিশুদের বিভিন্ন ধরনের খেলনা থাকবে পুজো চত্বরে।
পুজো কমিটির যুগ্ম সম্পাদক তুহিনকান্তি চৌধুরী ও ঝুলন সান্যাল জানান, এবার পুজোর বাজেট ৩০ লক্ষ টাকা। পুজো কমিটির সভাপতি অরূপ দাশগুপ্ত বললেন, ‘ক্লাবের পুজো হলেও গোটা পাড়ার সকলেই একত্রিত হন এই পুজোতে। বিজয়া সম্মিলনি পুজো প্রাঙ্গণেই করা হয়। মিষ্টিমুখ করানো হয়। সঙ্গে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন থাকে।’
পুজোমণ্ডপের সার্বিক ভাবনা এবং উপস্থাপনে রয়েছেন শিল্পী শুভাশিস পাল। তাঁর বাড়ি মালদায়। তাঁর কথায়, ‘মণ্ডপের কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে লোহা দিয়ে। সাজিয়ে তোলার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে বাঁশ, বাঁশের বাতা এবং বাঁশের কঞ্চি। তার মাঝেই ফুটিয়ে তোলা হবে সবুজে ঘেরা অরণ্য, নদী, পাহাড় ও রাস্তা।’ মণ্ডপের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মায়ের প্রতিমা তৈরি করছেন ময়নাগুড়ির মৃৎশিল্পী নির্মল পাল। প্রতিমাতেও আগমনীর বার্তা থাকবে বলে জানান তিনি।
চন্দননগরের আলোকসজ্জায় মুড়ে ফেলা হবে গোটা এলাকা। থাকবে পরিবেশ সম্পর্কিত সচেতনতার বার্তা। কোষাধ্যক্ষ শুভ চৌধুরীর আশা, এবারও তাঁদের আয়োজন দর্শনার্থীদের নজর কাড়বে।
পাড়ার দুর্গাবাড়ি মোড় এখন এই পুজোকে ঘিরে জমজমাট। দুর্গাবাড়ি মোড়ে লোহার সুদৃশ্য একটি টেন্ট তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। পুজো কমিটির সদস্য প্রদীপ বণিক, রঞ্জন রায় ও বাপ্পা রায়রা জানিয়েছেন, কেবলমাত্র পুজো শেষ কথা নয়। ক্লাবের নিজস্ব একটি অ্যাম্বুল্যান্সও রয়েছে। রোগীর পরিষেবার জন্য সেই অ্যাম্বুল্যান্স ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি প্রতি বছর ক্লাব প্রাঙ্গণে নিয়মিত রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়। বেসিক স্কুলের মাঠে প্রতি বছর নক আউট ফুটবল টুর্নামেন্টর আসরও বসে। এবার সেই টুর্নামেন্ট শেষ হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, পাড়ার পুজোতেই ক’দিন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আনন্দে কাটান তাঁরা।
