তন্দ্রা চক্রবর্তী দাস, কোচবিহার: কথায় আছে ইচ্ছে থাকলে উপায় হয়। তাই পাড়ার মহিলাদের মধ্যে কেউ নিজের হাতখরচের টাকা জমিয়ে, কেউ আবার লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা দিয়ে, কেউবা চাকরি করে উপার্জন করা টাকা জমিয়ে পুজোর আয়োজন করেছেন। দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমনের আর মাত্র ছয়দিন বাকি থাকলেও এক বছর আগে থেকে শুরু হয়ে গিয়েছিল পুজোর প্রস্তুতি। পুজোর আয়োজকরা এক বছর আগের থেকে কীরকম মণ্ডপ হবে, প্রতিমা কে গড়বেন এইসব বিষয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করে দিয়েছিলেন। বিগ বাজেট না হলেও প্রায় এক বছর ধরে নিজেদের এলাকায় পুজো করার কথা ভাবছিলেন ২৩ জন মহিলা। কথা হচ্ছে সাহিত্যসভা বাই লেনের প্রিয়াংকা পাল, সুপ্রীতি দে, মধুমিতা বসু সহ আরও কয়েকজনের। এবছর তাঁরা প্রথম নবোদ্যোগ দুর্গোৎসব পুজো কমিটি তৈরি করে দুর্গাপুজোর আয়োজন করছেন (Durga Puja 2025)।
শুধু ভাবলেই তো হবে না। পুজোর আয়োজন করতে প্রয়োজন টাকা। কোথা থেকে আসবে পুজো করার টাকা? এক বছর ধরে প্রতি মাসে কিছু কিছু টাকা জমিয়ে পুজোর জন্য ফান্ড তৈরি করেছিলেন তাঁরা। ফান্ডে জমা হওয়া টাকায় পুজোর খরচ সামাল দেওয়া যাবে না। তাই কেউ মায়ের মূর্তি, কেউ শাড়ি, কেউবা একদিনের পুজোর খরচের ভার নিয়েছেন। তাঁদের এবারের পুজোর বাজেট প্রায় এক লক্ষ দশ হাজার টাকা। পুজোর ক’টা দিন তাঁদের পাড়াটিও আলোয় ঝলমল করবে এই আশায় পাড়ার ২৩ জন মহিলা মিলে এই উদ্যোগ নিয়েছেন। এবছর তাঁরাও মায়ের আরাধনা করার পাশাপাশি হইহুল্লোড় করে আনন্দে মেতে থাকবেন।
এই পুজোয় টাকাপয়সার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন মায়া দাস সরকার। তিনি জানান, দু’বছর আগে তাঁরা সকলে মিলে ছোট করে সরস্বতীপুজোর আয়োজন করেছিলেন। সেখান থেকে পাড়ায় দুর্গাপুজো করার চিন্তাভাবনার সূত্রপাত হয়েছিল। যদিও শেষ অবধি সুষ্ঠুভাবে এই পুজোর আয়োজন করতে পারবেন কি না, সেটা নিয়ে একটা ভয় থাকলেও তাঁরা উৎসাহ নিয়ে সব কাজ করছেন।
পুজো কমিটির সেক্রেটারি দোলন বর্মন বলেন, ‘পুজোর আর বেশিদিন বাকি নেই। ইতিমধ্যে মূর্তি, ঢাকি, প্যান্ডেল, আলোকসজ্জা যাবতীয় কিছুর বায়না করা হয়ে গিয়েছে। মূর্তি গড়ছেন কুমোরটুলির গোবিন্দ পাল।’ তিনি আরও জানান, পুজোর ক’টা দিন সন্ধ্যাবেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। পাড়ার বাসিন্দারা এই অনুষ্ঠান করবেন। এখন জোরকদমে চলছে অনুষ্ঠানের রিহার্সাল। এছাড়া অষ্টমীর সন্ধ্যায় ধুনুচি নাচ হবে।
এই পুজো যেন তাঁদের বাড়ির পুজো। তাঁদের ঘরে প্রথমবার মা আসছেন। তাই বর্তমানে কমিটির সদস্যরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পুজোর আয়োজনে ব্যস্ত।
