Drug smuggling | শিলিগুড়িতে মাদক ছড়াচ্ছে পাঁচশোর বেশি পেডলার

Drug smuggling | শিলিগুড়িতে মাদক ছড়াচ্ছে পাঁচশোর বেশি পেডলার

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


শিলিগুড়ি : কয়লা ডিপোর ভেতর ছোট্ট একটা বাড়ি। সেখানেই দুই স্ত্রীকে নিয়ে সংসার মধ্যবয়স্ক এক ব্যক্তির। যদিও সংসার বললে ভুল বলা হবে, কারণ দিনের অধিকাংশ সময়ই তারা পড়ে থাকে রেললাইনের ধারে। সেখানেই কারা যেন আসে বাইকে চেপে। চোখের ইশারায় হয় দরদাম। আর তারপরই ছোট ছোট চকোলেটের আকারে র‌্যাপারে মোড়া কিছু তুলে দেওয়া হয় তাদের হাতে। মুহূর্তের মধ্যে সেলফ স্টার্ট দিয়ে পগারপার হয়ে যায় বাইকচালক।

কয়লা ডিপোর মোড়টায় সেদিন একদল তরুণের জটলা। সন্দেহের চোখ যেন ভালো করে স্ক্যান করে নিতে চাইছিল প্রতিবেদককে। পরে সেখানকারই এক স্থায়ী বাসিন্দা জানালেন, ওই তরুণরাই আসলে ‘খবরিলাল’। মাদকের খোঁজে কেউ এসেছে কি না, তা দেখেই বুঝে যায় তারা। পরিচিত খদ্দের বুঝলেই ফোন যায় ‘দাদা’র কাছে। আর তারপরই…

শিলিগুড়ি শহরের তিন মাথায় রয়েছে ড্রাগসের তিন কারবারি। তাদের আওতায় রয়েছে কয়লা ডিপোর ওই পরিবার। সূত্রের খবর, মাটিগাড়ার মা-মেয়ের কাছ থেকেই মূলত ড্রাগসের সাপ্লাই আসে তাদের তাছে। এরপর ঝংকার মোড়, খালপাড়া পেরিয়ে সেই ড্রাগ পৌঁছে যায় মহানন্দাপাড়ে।

এরকম আরও কয়েকটি পরিবার রয়েছে গোটা শহরে। একদম তৃণমূল স্তরে মাদক পৌঁছে দেয় এই নেটওয়ার্কই। এই যেমন, কয়লা ডিপোর এই পরিবারের ব্যবসা চলে প্রধাননগর পর্যন্ত, তেমনই ইসকন রোডে আবার দুই এজেন্ট রয়েছে। আশরফনগরেও মূলত তিনটি পরিবার এলাকায় ড্রাগস সাপ্লাইয়ের মাথা হিসেবে পরিচিত। এরা একেবারে শালুগাড়া পর্যন্ত নিজেদের আয়ত্তে রেখেছে। এদের মধ্যে একজন আবার বর্তমানে সংশোধানাগারে। কিন্তু ছেদ পড়েনি ব্যবসায়। পুলিশ যে জানে না তা নয়, কিন্তু সবসময় তাদের ধরা মুশকিল বলেই মন্তব্য করলেন এক পুলিশকর্মী।

এ তো গেল শহরের কথা। শহরতলিতে অবশ্য সাপ্লায়ারের সংখ্যাটা আরও বেশি। আর এক্ষেত্রে সবার প্রথমে নাম উঠে আসে পশ্চিম ধনতলার একটি পরিবারের। বছর কয়েক আগে ওই পরিবারের কয়েকজন চুরি ও মদ বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিল। তবে প্রায় তিন বছর ধরে পরিবারের সদস্যরা ব্রাউন সুগারের ব্যবসায় হাত পাকিয়েছে।

মজদুরবস্তি এলাকার দুই ভাই রীতিমতো এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে রেখেছে। আগে রেলের লোহা চুরি ও শ্রমিকের কাজ করত ওরা। এরপর মাটিগাড়া থেকে ড্রাগস এনে বিক্রি শুরু করে। এই এলাকায় এই দুই ভাই-ই মূলত বড় কারবারি। ভালোবাসা মোড়ে মুড়ি ফ্যাক্টরির কাছেও এক তরুণ বাড়ি থেকে মাদক বিক্রি করছে।

শহরে মাদকের মধ্যে মূলত ব্রাউন সুগার, অ্যাডহিসিভ, লামা থাকলেও শহরতলির ফিরিস্তিটা আরও বড়। শহরতলিতে গর্ভবতীদের ব্যথার ওষুধ সহ বিভিন্ন ধরনের সিডেটিভ ড্রাগস ব্যবহার করে নেশা করছে তরুণ প্রজন্মের একাংশ। নেশার ইনজেকশনও রয়েছে তালিকায়। এগুলির দামও ব্রাউন সুগারের থেকে কম। তবে শহর ও শহরতলি দুই ক্ষেত্রেই এলএসবি–র ব্যবহারও বাড়তে শুরু করেছে। যার দাম অন্য মাদক দ্রব্যের থেকে অনেকটাই বেশি।

খোঁজখবর করতে গিয়ে ভয়ংকর একটি তথ্য উঠে আসছে। এই মুহূর্তে শহরে মাদক ছড়াচ্ছে তিনশোরও বেশি কারবারি। পুলিশের অবশ্য ধারণা, এই পেডলারের সংখ্যাটা পাঁচশোরও বেশি হবে। এরা মূলত বাইক, স্কুটার নিয়ে শহরের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। এই দলে প্রচুর মহিলাও রয়েছে। ভক্তিনগর থানার এক পুলিশকর্মীর কথায়, ‘শরীরের গোপন জায়গায় এসব সামগ্রী নিয়ে বের হয়। মহিলা হওয়ায় হুটহাট তল্লাশিও চালানো যায় না।’

তবে একসঙ্গে খুব বেশি পুরিয়া নয়, চার থেকে পাঁচ প্যাকেট পুরিয়া নিয়ে বের হয় এই সাপ্লায়াররা। খদ্দের থাকতে পারে এমন নির্দিষ্ট মোড় কিংবা ঝোপঝাড়ে দাঁড়িয়ে থাকে তারা। তাদের কানের কাছে ‘শিক ধরেছে। মাল আছে নাকি?’ বললেই বেরিয়ে আসে পুরিয়া।

বর্তমানে এক পুরিয়া ব্রাউন সুগার মিলছে ৬০০-৮০০ টাকায়। সাপ্লাই লাইনে টান পড়লে দাম হাজার টাকাতেও গিয়ে ঠেকছে। মাসকয়েক আগে বাড়তি নজরদারির কারণে দাম বেড়ে গিয়েছিল ব্রাউন সুগারের। তখন নেশার টাকা জোগাতে অপরাধমূলক কাজকর্মে জড়িয়ে পড়েছিল একটা অংশ। শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটান পুলিশের এক পদস্থ কর্তার কথায়, ‘মাসকয়েক আগে খুব চুরি, ছিনতাই হচ্ছিল। অধিকাংশ ঘটনাতেই দেখা যায়, এরা কেউ পেশাগত চোর নয়। মূলত নেশার টানেই চুরি, ছিনতাইয়ের মতো অপকর্ম করে ছিল।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *