উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন আরও তীব্র। ইরান-আমেরিকা সংঘাত শনিবার ১৫ দিনে পা রাখল। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালী’র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বন্ধু রাষ্ট্রগুলোকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর ডাক দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে, ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেই সাফ জানিয়েছেন, আমেরিকার বিরুদ্ধে দর কষাকষির অস্ত্র হিসেবে এই জলপথ বন্ধই রাখা হবে।
ট্রাম্পের ‘গ্লোবাল কল’ ও রণকৌশল
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, মার্কিন নৌবাহিনী খুব শীঘ্রই বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে এসকর্ট বা পাহারা দিয়ে নিয়ে যাওয়া শুরু করবে। তিনি চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ব্রিটেনকে এই অভিযানে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন: “অনেক দেশ এই কৃত্রিম সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। হরমুজ প্রণালীকে নিরাপদ রাখতে আমেরিকা ও তার সহযোগী রাষ্ট্রগুলো একযোগে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে।”
যদিও ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ১০০ শতাংশ ধ্বংস হয়ে গেছে, তবুও তিনি স্বীকার করেছেন যে, পরাজিত অবস্থায় থাকলেও তেহরানের পক্ষে ড্রোন হামলা বা মাইন বিছিয়ে দেওয়া সহজ কাজ।
খামেনেইর প্রথম বার্তা: “ঘাঁটি গুটিয়ে পালাও”
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই ক্ষমতা দখলের পর প্রথমবার মুখ খুললেন। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তাঁর পাঠানো বার্তা পাঠ করা হয়। যেখানে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন:
• হরমুজ প্রণালী বন্ধই থাকবে।
• মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানো হবে।
• আমেরিকাকে উদ্দেশ্য করে তাঁর বার্তা— “নিজেদের ঘাঁটিগুলো যত দ্রুত সম্ভব বন্ধ করো।”
ধ্বংসস্তূপে ইরানের তেল পরিকাঠামো
শুক্রবার মার্কিন হামলায় ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র ‘খার্গ আইল্যান্ড’ কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়েছেন যে, জাহাজ চলাচলে বাধা দিলে ইরানের বাকি তেল পরিকাঠামোও ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া হবে। গত ১ মার্চ থেকে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে প্রতিদিন প্রায় ২০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল এবং ২০ শতাংশ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ থমকে গেছে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব
বিশ্বের অন্যতম প্রধান এনার্জি রুট বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী ইরান ‘শিরশ্ছেদ’ হওয়া একটি জাতিতে পরিণত হলেও, মোজতবা খামেনেইর অনড় মনোভাব ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এই যুদ্ধ সহজে থামার নয়।
