উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: গভীর রাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) ফ্লোরিডার অভিজাত বাসভবন ‘মার-এ-লগো’-তে (Mar-a-Lago property) ভয়াবহ নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা। সুরক্ষিত ওই প্রাসাদে বেআইনিভাবে প্রবেশের চেষ্টার পরিণতি হলো মর্মান্তিক। হাতে শটগান ও জ্বালানি ভরতি ক্যান নিয়ে অনুপ্রবেশকারী এক যুবককে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালাল মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস (US Secret Service)। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে বছর কুড়ির ওই সশস্ত্র যুবকের। তবে স্বস্তির বিষয়, এই রোমহর্ষক ঘটনার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (US President Donald Trump) সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।
ঘটনাটি ঘটেছে স্থানীয় সময় রাত ১টা ৩০ মিনিট নাগাদ। সিক্রেট সার্ভিসের মুখপাত্র অ্যান্টনি গুগলিয়েলমি (Anthony Guglielmi) সামাজিক মাধ্যম এক্স (X)-এ একটি পোস্ট করে এই হাড়হিম করা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। জানা গিয়েছে, ঘড়ির কাঁটায় তখন মধ্যরাত পেরিয়েছে। ঠিক সেই সময় মার-এ-লগোর উত্তর দিকের গেট দিয়ে কড়া নিরাপত্তা বলয় ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে ওই যুবক। তার হাতে থাকা শটগান ও জ্বালানির ক্যান (shotgun and a gasoline can) দেখে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছিল, আগুন লাগানো বা বড়সড় কোনও নাশকতার ছক নিয়েই সে এসেছিল।
সন্দেহভাজনকে ওই অবস্থায় দেখামাত্রই তৎপর হন নিরাপত্তারক্ষীরা। অনুপ্রবেশকারীকে থামাতে সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্ট এবং পাম বিচ কাউন্টি শেরিফ অফিস (Palm Seashore County Sheriff’s Workplace বা PBSO)-এর এক আধিকারিক যৌথভাবে গুলি চালান এবং গুলিতেই মৃত্যু হয় তার। যুবকের পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি, কারণ নিয়ম অনুযায়ী আগে তার পরিবারকে খবর দেওয়া হবে। এই আকস্মিক এনকাউন্টারে কোনও নিরাপত্তারক্ষী আহত হননি বলে বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে।
এই ঘটনার পেছনে ওই যুবকের আসল উদ্দেশ্য কী ছিল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জোরদার তদন্ত শুরু করেছে এফবিআই (FBI), সিক্রেট সার্ভিস এবং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। কেন সে জ্বালানি নিয়ে ঢুকেছিল, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য। এদিকে, সংস্থার নিয়ম মেনে, যে সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টরা এই এনকাউন্টারে যুক্ত ছিলেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আপাতত রুটিন প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। ট্রাম্পের অনুপস্থিতি হয়তো এক বড়সড় বিপদ এড়াতে সাহায্য করেছে, কিন্তু এই ঘটনা মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা নিয়ে ফের একবার বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল।
