Dipu Chandra Das Homicide | সাহায্য বলতে মাত্র ২৫ হাজার! দীপু দাসের বাড়িতে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক

Dipu Chandra Das Homicide | সাহায্য বলতে মাত্র ২৫ হাজার! দীপু দাসের বাড়িতে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক

শিক্ষা
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ওপার বাংলায় সংখ্যালঘুদের ওপর ক্রমাগত বাড়তে থাকা বর্বরোচিত আক্রমণের সর্বশেষ শিকার হয়েছেন ময়মনসিংহের ভালুকার পোশাক কারখানার শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাস। নৃশংসভাবে পিটিয়ে এবং পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে এই নিরীহ যুবককে (Dipu Chandra Das Homicide)। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার শোকাতুর স্বজনদের সান্ত্বনা দিতে তাঁদের দুয়ারে পৌঁছাল ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন। সোমবার দুপুরে তারাকান্দা উপজেলার মোকামিয়াকান্দা গ্রামে দীপুর বাড়িতে সশরীরে হাজির হন জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার পরিবারকে মাত্র ২৫ হাজার টাকার আর্থিক সাহায্য প্রদান নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন।

সোমবার জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমানের নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধি দল দীপু দাসের ভিটেতে পৌঁছান। শোকস্তব্ধ পরিবারের কান্নায় তখন আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে দীপুর পরিবারের হাতে ২৫ হাজার টাকা নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি একটি সেলাই মেশিন, সামান্য শীতবস্ত্র ও কিছু শুকনো খাবার প্রদান করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক আশ্বাস দিয়েছেন যে, দীপুর অসহায় স্ত্রীকে সরকারি ভাতার আওতায় আনা হবে এবং পরিবারটি যদি কোনোভাবে এই শোক কাটিয়ে উঠতে পারে, তবে ভবিষ্যতে তাঁদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু একটি তরতাজা প্রাণের বিনিময়ে এই সামান্য অর্থ সাহায্য নিয়ে

এদিন সাহায্য গ্রহণের সময় দীপুর বয়োবৃদ্ধ বাবা-মা এবং স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁদের একমাত্র দাবি ছিল—অর্থ বা ত্রাণ নয়, তাঁরা চান সন্তানের খুনিদের ফাঁসি। তাঁরা অভিযোগ করেন, দীপুকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এবং নৃশংসভাবে পিটিয়ে শরীর জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কাছে তাঁরা আর্জি জানান, যেন কোনোভাবেই অপরাধীরা পার পেয়ে না যায়।

স্বজনদের সামনে দাঁড়িয়ে জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান কঠোর আইনি ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। ইতিমধ্যেই আমরা ১২ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছি। ঘটনার সময়কার অডিও ও ভিডিও ফুটেজ আমাদের হাতে রয়েছে। বিশেষজ্ঞ দিয়ে সেই ফুটেজ বিশ্লেষণ করে যারা সরাসরি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত, তাদের প্রত্যেককে চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”

দীপু চন্দ্র দাসের হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার অভাবকে আবারও বড় করে সামনে নিয়ে এসেছে। শিলিগুড়ি থেকে শুরু করে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে এই ঘটনার প্রতিবাদে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে নানা সংগঠন। ময়মনসিংহের এই ঘটনার আঁচ যে সহজে নিভবে না, তা প্রশাসনের তৎপরতা এবং জনরোষ থেকেই স্পষ্ট।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *