দিনহাটা: সম্প্রতি গভীর রাতে তীব্র পেটে ব্যথা নিয়ে শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রমেশ বর্মন দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। প্রাথমিক চিকিৎসার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় ওষুধের প্রেসক্রিপশন ধরিয়ে দেন। সেখান থেকে শুরু হয় আসল ভোগান্তি। হাসপাতালের ন্যায্যমূল্যের ওষুধের দোকানে সেই ওষুধ মেলেনি। পরিবারের সদস্যরা শহরের বিভিন্ন মেডিসিনের দোকানে গিয়ে দেখেন সব দোকান বন্ধ। অবশেষে বাধ্য হয়ে দিনহাটার বাইরে একটি নার্সিংহোম থেকে বিকল্প ব্র্যান্ডের ওষুধ নিয়ে আসেন তাঁরা। এমন ঘটনা কেবলমাত্র একদিনের নয়, প্রতিদিন রাতেই শহরের সব ওষুধের দোকান বন্ধ থাকে। তাই দিনহাটাবাসীর মধ্যে এক অজানা আতঙ্ক কাজ করে যে, রাতবিরেতে হঠাৎ কেউ অসুস্থ হলে প্রয়োজনীয় ওষুধ মিলবে কি না।
একসময় বেঙ্গল কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রোটেশন পদ্ধতিতে প্রতিদিন রাতে একটি করে ওষুধের দোকান খোলা থাকত। ফলে প্রয়োজন পড়লে ওষুধ কিনতে গিয়ে রোগীর পরিবারকে হয়রানির শিকার হতে হত না। কিন্তু বেশ কয়েকদিন ধরে এই ব্যবস্থা কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
সংগঠনের সম্পাদক অভিজিৎ সাহা এবিষয়ে জানান, হাসপাতালে ন্যায্যমূল্যের দোকান চালু হওয়ার পর থেকে রাতে শহরের অন্য ওষুধের দোকানগুলিতে ক্রেতারা প্রায় আসত না। আর্থিক ক্ষতির কারণে সদস্যরা দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন। তবে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, খুব তাড়াতাড়ি সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে রাতে দোকান খোলার বিষয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
শহরের বাসিন্দা কমল সেনের কথায়, ‘অসুখ সময় দেখে আসে না। রাতে যদি অন্তত একটি ওষুধের দোকান খোলা থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের খুব উপকার হয়।’ দিনহাটাবাসীর আশা, খুব তাড়াতাড়ি এই সমস্যার সমাধান হবে। রাতে ওষুধ খুঁজে পেতে তাঁদের আর নাজেহাল হতে হবে না।
