দিনহাটা: দিনহাটা শহরের হোটেল থেকে রেস্তোরাঁয় ব্যাপক পরিমাণে ব্যবহার হচ্ছে ডোমেস্টিক এলপিজি সিলিন্ডার। তার জন্য কোনও নজরদারি নেই প্রশাসনের তরফে। বৃহস্পতিবার চওড়াহাট বাজারে এক চায়ের দোকানে ডোমেস্টিক সিলিন্ডার থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতেই হুঁশ ফিরল পুলিশ ও প্রশাসনের। শহর ও শহরতলির একাধিক হোটেল ও রেস্তোরাঁতে অভিযান চলাতেই মিলল ১২টি ডোমেস্টিক সিলিন্ডার। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, ঘটনা ঘটার পরেই কেন প্রতিবার প্রশাসনের ঘুম ভাঙে?
দুইমাসের ব্যবধানে বৃহস্পতিবার ফের চওড়াহাট বাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। যাকে কেন্দ্র করে বাজার এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। এদিন বাজারের রবি সাহা নামে এক চা বিক্রেতার দোকানে আগুন লাগে। যদিও দমকলের তৎপরতায় আগুন অন্যত্র ছড়িয়ে না পড়ায় বাজার রক্ষা পায়।
প্রাথমিকভাবে জানা যায়, ওই দোকানে থাকা ডোমেস্টিক সিলিন্ডারের পাইপ থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। যার জেরে ওই চায়ের দোকানের একাংশ পুড়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে পার্থ চক্রবর্তীর কথায়, ‘যেভাবে এদিন চায়ের দোকানের গ্যাস সিলিন্ডারে আগুন লেগেছিল তাতে যে কোনও সময় গ্যাস সিলিন্ডার ফেটে বড় বিপর্যয় হতে পারত।’
সকালে দুর্ঘটনার পরে দুপুরেই অ্যাকশনে নেমে পড়ে দিনহাটা থানার পুলিশ। মহকুমা পুলিশ আধিকারিক ধীমান মিত্র, আইসি জয়দীপ মোদকের নেতৃত্বে বিশেষ বাহিনী এদিন দিনহাটা চওড়াহাট বাজার, কৃষিমেলা বাজার, বৌবাজার, হ্যামিল্টন বাজারের একাধিক হোটেল ও রেস্তোরাঁয় অভিযান চালায়। তাঁরা লক্ষ করেন, একাধিক জায়গায় কমার্সিয়াল গ্যাসের বদলে ডোমেস্টিক সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন। যা একেবারেই আইন বিরুদ্ধ, এদিন এরকম ১২টি সিলিন্ডার পুলিশ উদ্ধার করে।
মহকুমা পুলিশ আধিকারিক ধীমান মিত্রর কথায়, ‘এখন নিয়মিত অভিযান চলবে। যারা আইন মানবে না তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপও করা হবে।’
পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি হোটেল ইউনিয়নের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে। অভিযোগ, ইউনিয়নের তরফেও কখনও সেভাবে নজরদারি লক্ষ করা যায়নি। ফলে এক ধরনের ব্যবসায়ী নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েই এই কাজ করছেন। যদিও দিনহাটা হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সৌরভ পোদ্দারের কথায়, ‘আমাদের ইউনিয়নের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের প্রতিনিয়ত খাদ্য সুরক্ষার বিষয়ে এবং বাণিজ্যিক সিলিন্ডার ব্যবহার করার বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে।’ তবে সৌরভের কথায়, ‘যারা ইউনিয়নের বাইরে তারাই এ ধরনের অবৈধ কাজের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। আমরা ইউনিয়নের পক্ষ থেকে এ ধরনের কাজের পক্ষপাতি নই, পাশাপাশি পুলিশ যাতে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে এই আশাই রাখব।’
শহরের বাসিন্দা তথা ব্যবসায়ী মিন্টু দেবনাথের কথায়, ‘মাঝে মাঝে বাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। যেহেতু চওড়াহাট বাজার একটু ঘিঞ্জি এলাকা তাই এবিষয়ে পুলিশ প্রশাসন থেকে ব্যবসায়ী সকলকেই সজাগ থাকতে হবে। হোটেলগুলির অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রয়েছে কি না সেবিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত।’
