উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্য বাজেটে ঘোষিত ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের (Yuva Sathi Scheme) নাম নথিভুক্তকরণ শুরু হতেই রাজ্যজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বেকার ভাতা পাওয়ার আশায় গত রবিবার থেকে আবেদনকারীদের দীর্ঘ লাইন বাংলার কর্মসংস্থানের কঙ্কালসার চেহারাকেই সামনে এনেছে বলে সরব হয়েছে বিরোধীরা। এই আবহে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee) ও তৃণমূল সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)।
বিকাশ ভবন থেকে শুরু করে জেলাস্তরের বিভিন্ন কেন্দ্রে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাশ তরুণ-তরুণীদের ভিড় উপচে পড়ছে। এমনকি সন্তানের জন্য ষাটোর্ধ্ব বাবাকেও লাইনে দাঁড়িয়ে ফর্ম সংগ্রহ করতে দেখা গিয়েছে। এই দৃশ্যকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ আখ্যা দিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে এই দৃশ্যই উপহার দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। যেখানে ছেলের ওষুধের জন্য বাবার লাইনে দাঁড়ানোর কথা, সেখানে বাবার জন্য ছেলেকে ভাতার লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভোটের কথা মাথায় রেখেই যুবসমাজকে এই ভাতার ‘লোভ’ দেখানো হচ্ছে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত ৮টা পর্যন্ত মোট ১৩ লক্ষ ৫২ হাজার ৮৩৬টি আবেদন জমা পড়েছে। জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে মুর্শিদাবাদ শীর্ষে রয়েছে এবং সবচেয়ে কম আবেদন জমা পড়েছে কালিম্পং থেকে। দিলীপ ঘোষের দাবি, এই সংখ্যাই প্রমাণ করে রাজ্যে কর্মসংস্থানের প্রকৃত অবস্থা কতটা শোচনীয়।
রাজ্য বাজেট অনুযায়ী, ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী মাধ্যমিক পাশ যুবক-যুবতীরা এই ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের আওতায় আসবেন। ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে এটি কার্যকর হবে এবং সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত এই ভাতা পাওয়া যাবে। তবে এর মাঝে চাকরি পেয়ে গেলে সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে। উচ্চশিক্ষার স্কলারশিপ পেলেও এই ভাতার জন্য আবেদন করা যাবে। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য সরকার এই প্রকল্পে ৫,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই প্রকল্প যেমন সাধারণ মানুষের কাছে বড় প্রাপ্তি, তেমনই বিরোধীদের কাছে কর্মসংস্থান নিয়ে সরকারকে বিদ্ধ করার নতুন হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
