উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ দিল্লিতে লাল কেল্লার কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণের তদন্ত যত গভীর হচ্ছে, ততই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। সেই আবহেই আজ ফরিদাবাদের আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও ৩ চিকিৎসককে হেপাজতে নিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। তাঁদেরকে ইতিমধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদ করা শুরু করেছে তদন্তকারী দল। উল্লেখ্য, দেশের শীর্ষ সন্ত্রাস-বিরোধী সংস্থা ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA) এখন এই জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেছে।
এই বিশ্ববিদ্যালয়টি সম্প্রতি শিরোনামে আসে যখন এখানকার ৩ চিকিৎসককে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ, বিশেষত গতকালের ভয়াবহ বিস্ফোরণের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে চিহ্নিত করা হয়। এর আগে তদন্তে যে ৩ চিকিৎসকের নাম উঠে এসেছিল, তাঁরা হলেন মুজাম্মিল শাকিল, উমর মহম্মদ এবং শাহিন শাহিদ। মুজাম্মিল এবং উমর দু’জনেই কাশ্মীর থেকে এসেছেন এবং শাহিন লখনউয়ের বাসিন্দা। তদন্তকারীরা নিশ্চিত করেছেন যে, এই ৩ জনই ফরিদাবাদের ওই হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। এই আবহেই এবার একই হাসপাতালের আরও ৩ চিকিৎসককে জজ্ঞাসাবাদের জন্য হেপাজতে নেওয়া হল।
তদন্তে জানা গিয়েছে, ঘটনায় অন্যতম সন্দেহভাজন মুজাম্মিল শাকিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে থাকা সত্ত্বেও ফরিদাবাদে দুটি ঘর ভাড়া নিয়েছিলেন। সেই ঘর দুটি থেকে প্রায় ২,৯০০ কেজি বোমা তৈরির সরঞ্জাম সহ অন্যান্য সন্দেহজনক সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়। শুধু তাই নয়, মুজাম্মিল-এর সহকর্মী, শাহিন শাহিদের একটি গাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে অ্যাসল্ট রাইফেল এবং প্রচুর পরিমাণে গুলি। তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে যে, শাহিন শাহিদ আসলে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের মহিলা শাখা ‘জামাত উল-মুমিনাত’-এর ভারত শাখার প্রধান ছিলেন। এই নতুন শাখাটির নেতৃত্বে রয়েছেন জইশ প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ আজহারের বোন সাদিয়া আজহার।
বিস্ফোরক উদ্ধারের পর পরই লাল কেল্লার কাছে মারাত্মক বিস্ফোরণটি ঘটে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি সমস্ত সূত্রগুলিকে একত্রিত করার সময় উমর মহম্মদের নাম উঠে আসে। উমর আল-ফালাহ-এর কর্মী এবং মুজাম্মিল-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, উমর মহম্মদই হয়তো হুন্ডাই আই ২০ গাড়িটি চালাচ্ছিলেন, যা ট্র্যাফিক সিগন্যালের কাছে বিস্ফোরিত হয়। মুজাম্মিল-এর ওপর গোয়েন্দাদের নজরদারি শুরু হওয়ায় এবং মজুত রাখা বিস্ফোরক ধরা পড়ে যাওয়ায় উমর তড়িঘড়ি একটি আত্মঘাতী হামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এনআইএ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সব দিক তদন্ত করে দেখছে।
