উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: শীতের মরশুমে দিল্লির আবহাওয়ার (Delhi Air pollution and Fog) উন্নতির কোনো লক্ষণই নেই। শনিবার ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে গোটা রাজধানী। একদিকে যেমন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা তলানিতে, অন্যদিকে দূষণের দাপটে দিল্লির বাতাস এখন ‘ভয়াবহ’ পর্যায়ে। পরিস্থিতি বিচার করে রবিবার ও সোমবার রাজধানীতে হলুদ সতর্কতা (Yellow Alert) জারি করেছে মৌসম ভবন।
বাতাসে বিষ, নিশ্বাস নেওয়াই দায়: শনিবার সকালে দিল্লির সামগ্রিক বায়ু গুণমান সূচক বা একিউআই (AQI) রেকর্ড করা হয়েছে ৩৩২। তবে দিল্লির বেশকিছু এলাকায় এই সূচক ৪০০-র গণ্ডি ছাড়িয়ে গিয়েছে। নরেলা (৪১৭), জাহাঙ্গীরপুরী (৪১৭) এবং নেহরুনগরের (৪০২) মতো এলাকাগুলিতে পরিস্থিতি কার্যত শ্বাসরুদ্ধকর। ধোঁয়াশা ও দূষণের এই মিশ্রণ শুধু দৃশ্যমানতাই কমায়নি, জনজীবনও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। বিশেষ করে শিশু ও প্রবীণদের জন্য এই বাতাস অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। বহু মানুষের চোখ জ্বালা এবং ক্রমাগত কাশির উপসর্গ দেখা দিচ্ছে।
কোটি টাকার বৃষ্টি-বিলাস ও ব্যর্থতা: দূষণ রুখতে কৃত্রিম বৃষ্টি বা ‘ক্লাউড সিডিং’-এর পথে হেঁটেছিল দিল্লি সরকার। কিন্তু সেই চেষ্টাও কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে। তথ্য অনুযায়ী, তিনটি ব্যর্থ ট্রায়ালের জন্য সরকারের কোষাগার থেকে খরচ হয়েছে প্রায় ১.০৭ কোটি টাকা। লাভ কিছুই হয়নি, বরং লাফিয়ে বেড়েছে দূষণ। বর্তমানে ধুলো কমাতে জল স্প্রে করার মতো প্রথাগত পদ্ধতিতেই ভরসা রাখছে প্রশাসন।
পরিবহণ ব্যবস্থায় বিপত্তি: মৌসম ভবনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৮ ও ২৯ ডিসেম্বর কুয়াশার তীব্রতা আরও বাড়বে। ভোরে দৃশ্যমানতা শূন্যের কাছাকাছি নেমে আসায় ট্রেন ও বিমান চলাচলে বড়সড়ো প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আইজিআই (IGI) বিমানবন্দরের যাত্রীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে যেন তাঁরা অবশ্যই বিমানের সময় দেখে নেন। ৩০ ডিসেম্বর থেকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
আপাতত সর্বোচ্চ স্তরের নিয়ন্ত্রণবিধি জারি থাকলেও দিল্লির আকাশ পরিষ্কার হওয়ার কোনো ইঙ্গিত নেই। দূষণ ও কুয়াশার এই জোড়া আক্রমণে দিশেহারা সাধারণ মানুষ।
