উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: রাজধানী দিল্লির মারাত্মক বায়ুদূষণ মোকাবিলায় কৃত্রিম বৃষ্টিপাতের আয়োজন করা হল। আর এই কৃত্রিম বৃষ্টির জন্য প্রয়োগ করা হচ্ছে ‘ক্লাউড সিডিং’ (Cloud-Seeding) পদ্ধতি। মঙ্গলবার বিকেলে ‘ক্লাউড সিডিং’-এর জন্য ব্যবহৃত বিমানটি তাঁর প্রাথমিক কাজটি সম্পন্ন করে উত্তরপ্রদেশের কানপুরে তার ঘাঁটিতে ফিরে গিয়েছে বলে সূত্রের খবর।
দিল্লিবাসী এখন তীব্র ধোঁয়াশার চাদর থেকে মুক্তি পেতে বৃষ্টির প্রতীক্ষায় রয়েছে। তবে এও জানা গিয়েছে যে, বিকেল ৫টার আগে বৃষ্টির সম্ভাবনা কম, কারণ এই মুহূর্তে শহরের উপরের মেঘে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ ২০ শতাংশেরও কম। এত কম আর্দ্রতার স্তরে সাধারণত বৃষ্টির সম্ভাবনা খুবই কম থাকে। যদি আবহাওয়া অনুকূল থাকে এবং প্রথম ‘ক্লাউড সিডিং’-এর চেষ্টাটি ব্যর্থ হয়, তবে দ্বিতীয় একটি বিমান পুনরায় ক্লাউড সিডিং-এর জন্য কানপুর থেকে যাত্রা করতে পারে।
উল্লেখ্য, দিল্লি সরকার সেপ্টেম্বরে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (IIT)-এর সঙ্গে একটি মৌ (MoU) স্বাক্ষর করেছিল। এর দরুন, ৩.২১ কোটি টাকা ব্যয়ে উত্তর-পশ্চিম দিল্লির উপরে পাঁচটি পরীক্ষামূলক ‘ক্লাউড সিডিং’ প্রক্রিয়া চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এই পরীক্ষাগুলি ১ অক্টোবর থেকে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে যে কোনও সময় হতে পারে।
ক্লাউড সিডিং কী?
‘ক্লাউড সিডিং’ হল, বায়ুমণ্ডলে সিলভার আয়োডাইড ন্যানো পার্টিকেলস (silver iodide nanoparticles), আয়োডিনযুক্ত লবণ (iodised salt), এবং ড্রাই আইস-এর মতো রাসায়নিক যুক্ত করার একটি পদ্ধতি, যা পরিবেশকে বৃষ্টিপাত ঘটাতে ‘প্ররোচিত’ করে। এটি সাধারণত জল সংকটে থাকা অঞ্চলে, শিলাবৃষ্টি কমাতে বা কুয়াশা দূর করতে ব্যবহার করা হয়। বিমান, রকেট বা স্থলভাগ থেকে ব্যবহৃত যন্ত্র ব্যবহার করেও এই প্রক্রিয়াটি চালনা করা যেতে পারে।
প্রসঙ্গত, রাজধানী দিল্লি সারা বছরই উচ্চ মাত্রার দূষণের জন্য কুখ্যাত। তবে শীতকালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। প্রতিবেশী রাজ্যগুলিতে ফসলের আগুন থেকে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়া এবং শীতকালীন আবহাওয়ার যোগসাজশে দূষণ বহু গুণ বেড়ে যায়। আসলে, বায়ু দূষণের অন্যতম প্রধান কারণ, ফসলের আগুন ৭৭.৫ শতাংশ হ্রাস করা সম্ভব হলেও, বাজি পোড়ানোর দরুন দীপাবলির পরে শহরের একিউআই (AQI) পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল।
দীপাবলির এক সপ্তাহ পরেও এই উদ্বেগজনক আবহাওয়া অব্যাহত রয়েছে। সূত্রের খবর, সকাল ৮টা পর্যন্ত, শহরের বিভিন্ন অংশে একিউআই ৩০০ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। দক্ষিণ দিল্লির সিরি ফোর্টের মতো এলাকায় তা ছিল ৩৫০। অন্যান্য এলাকা যেমন আরকে পুরম (৩২০), বাওয়ানা (৩৩৬), বুরারি ক্রসিং (৩২৬), দ্বারকা সেক্টর ৮ (৩১৬), মুন্ডকা (৩২৪), নরেলা (৩০৩), এবং পাঞ্জাবি বাগেও তা ৩০০-এর বেশি ছিল।
ইউনিভার্সিটি অফ শিকাগোর এনার্জি পলিসি ইনস্টিটিউটের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই দূষিত বাতাস বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকায় উল্লেখিত গড় আয়ুর তুলনায় নাগরিকদের গড় আয়ু ১১.৯ বছর কমিয়ে দিচ্ছে। এখন দেখার, এই কৃত্রিম বৃষ্টির চেষ্টা কতটা ফলপ্রসূ হয় এবং তা দিল্লির মানুষকে এই দূষণ থেকে কতটা রেহাই দিতে পারে।
