উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: আলোর উৎসবে আরও আলোকময় অযোধ্যা। রবিবার ছোট দীপাবলি উপলক্ষে সরযূর তীরে ২৬ লক্ষেরও বেশি প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে দুটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড নথিভুক্ত করে ইতিহাস রচনা করল ভগবান রামের শহর অযোধ্যা। অযোধ্যায় সরযূ নদীর তীরে উত্তর প্রদেশ সরকারের পর্যটন বিভাগ এবং জেলা প্রশাসনের তরফে দীপোৎসবের (Deepotsav) আয়োজন করা হয়েছিল। যেখানে রেকর্ড সংখ্যক ২৬,১৭,২১৫ টি প্রদীপ জ্বালানো হয়। একই সঙ্গে আরতিতে অংশ নেন সর্বাধিক লোক। এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানের সাক্ষী থাকতে অযোধ্যার সরযূ নদীর তীরে রাম কি পাইদীতে বিপুল সংখ্যক মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। সেখানে দূর্দান্ত লেজার শো, ড্রোন শো ও রামলীলা পরিবেশন করা হয়েছিল। সরযূ নদীর তীরে, যেখানে ভগবান রাম নির্বাণ অর্জন করেছিলেন বলে কথিত আছে, সেখানেই প্রতিবছর দীপোৎসবের আয়োজন করে থাকে যোগী সরকার। বছরের পর বছর ধরে, এই উদযাপন জাঁকজমক বৃদ্ধি পেয়েছে, প্রতিটি বছর প্রদীপের সংখ্যা পূর্ববর্তী বছরগুলোকে ছাড়িয়ে গেছে।
এদিন সন্ধ্যায় যোগী আদিত্যনাথ নিজে রাম সীতা ও লক্ষ্মণের আরতি করেন। প্রতীকী পুষ্পক রথও টানেন তিনি। রামলীলা পরিবেশন করেন ৫ টি দেশের শিল্পীরা। অযোধ্যার বিভাগীয় কমিশনার রাজেশ কুমার জানিয়েছেন, নিরাপত্তা, আলো, ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সব ব্যবস্থাই ছিল একদম যথাযথ। এদিন শহরজুড়ে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের মোতায়েন করা হয়। গোটা অনুষ্ঠানকে সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করতে হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবক সকাল থেকেই হাজির হন সরযূ নদীর তীরে। ৫৬টি ঘাটে প্রদীপ সাজানো ও জ্বালানোর দায়িত্বে ছিলেন প্রায় ৩৩ হাজার স্বেচ্ছাসেবক।
এদিন গিনেস কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা রেকর্ডের কথা ঘোষণার পর যোগী আদিত্যনাথ বলেন, ‘প্রতিটি প্রদীপ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে সত্যকে বিচলিত করা যেতে পারে কিন্তু পরাজিত করা যায় না। সত্যের নিয়তি হল জয়লাভ করা। সনাতন ধর্ম ৫০০ বছর ধরে ক্রমাগত সংগ্রাম করে আসছে। সেই সংগ্রামের ফলস্বরূপ, অযোধ্যায় একটি বিশাল এবং ঐশ্বরিক মন্দির নির্মিত হয়েছে।’ মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যবাসীর প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘দীপোৎসব কর্মসূচির মাধ্যমে উত্তরপ্রদেশের জন্য একটি স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরির প্রচেষ্টা করা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশে ডাবল-ইঞ্জিন সরকার গঠনের পর, উত্তরপ্রদেশের নাগরিকদের পরিচয়ের সঙ্গে যাতে আপস না হয় এবং কেউ তাদের বিশ্বাস নিয়ে খেলা করার সাহস না করে তা নিশ্চিত করার জন্য, আমরা ক্রমাগত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
