শুভ্রজ্যোতি রাহা, ডালখোলা: ডালখোলা পুরসভার (Dalkhola Municipality) চেয়ারম্যান পদ থেকে স্বদেশচন্দ্র সরকার ইস্তফা দেওয়ার পর তিন সপ্তাহের বেশি সময় কেটে গিয়েছে। কিন্তু এখনও নতুন চেয়ারম্যানের নাম ঘোষণা করতে পারেনি তৃণমূল কংগ্রেস। চেয়ারম্যানের চেয়ারে কে বসতে চলেছেন, তা নিয়ে যেমন রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছে, তেমনই চর্চা চলছে শহরবাসীর মধ্যেও।
কেবল ডালখোলা নয়, উত্তরবঙ্গের আরও একাধিক পুরসভায় চেয়ারম্যানকে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে। আর নতুন চেয়ারম্যান বেছে নেওয়া নিয়ে সমস্যাও যে কেবল ডালখোলায় রয়েছে, তা-ও নয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও ডালখোলা সবার থেকে আলাদা। কারণ এখানে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশ মানতে নারাজ তৃণমূলের কাউন্সিলাররা। দলগতভাবে নির্দেশ এসেছিল নতুন চেয়ারপার্সন করা হবে পুরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সুমনা দাসকে। কিন্তু কাউন্সিলারদের একাংশ দলের সেই নির্দেশ মেনে নেননি। তাই এখনও থমকে চেয়ারম্যান গঠন প্রক্রিয়া। এনিয়ে একাধিকবার দলের জেলা সভাপতি সহ স্থানীয় বিধায়ক কাউন্সিলারদের নিয়ে বৈঠকে বসেছেন। তা-ও জটিলতা কাটেনি।
বিদ্রোহী কাউন্সিলাররা দলীয় নেতৃত্বকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, চেয়ারপার্সন হিসাবে সুমনা দাসকে তাঁরা মানতে নারাজ। তাঁদের দাবি, আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে জনগণের মন জয় করার জন্য একজন অভিজ্ঞ চেয়ারম্যান প্রয়োজন। অথচ দল যাঁর নাম ঘোষণা করেছে তিনি এই প্রথমবার নির্বাচনে জয়ী হয়ে কাউন্সিলার হয়েছেন। চেয়ারপার্সনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে তাঁকে বসানো হলে খারাপ প্রভাব পড়বে নির্বাচনে।
ডালখোলা পুরসভার ১৬টি ওয়ার্ড। সবক’টি ওয়ার্ডে তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলার। সূত্রের খবর, ১০ জন কাউন্সিলার দলীয় নির্দেশের বিপক্ষে রয়েছেন। তাঁরা চাইছেন, তাঁদের মধ্য থেকেই চেয়ারম্যান বেছে নেওয়া হোক।
তাহলে আপাতত তৃণমূলের কাছে ৩টি রাস্তা খোলা রয়েছে। প্রথমত, কড়া হাতে হাল ধরে সুমনাকেই পুরসভার মাথায় বসানো। তাতে আবার দলের অন্দরে বিদ্রোহের আশঙ্কা রয়েছে। দ্বিতীয়ত, বিদ্রোহীদের দাবি মেনে তাঁদের মধ্য থেকে একজনকে বেছে নেওয়া। আর তৃতীয়ত, এই দুটির একটি পথেও না হেঁটে, বাকিদের মধ্য থেকে অন্য একজনকে বেছে নেওয়া। দল কোন পথে যাবে?
এব্যাপারে তৃণমূল কংগ্রেসের ডালখোলা শহর সভাপতি বিকি দত্ত বলেন, ‘রাজ্যে এসআইআর চলছে। সেজন্যই চেয়ারম্যান নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হচ্ছে। তবে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই নতুন চেয়ারম্যান পুরসভার দায়িত্ব নিয়ে নেবেন।’
চেয়ারম্যান হিসাবে দল যার নাম ঘোষণা করেছে তাকে দলীয় কাউন্সিলারদের একাংশ মেনে নিচ্ছে না কেন? এই প্রশ্নের জবাবে বিকি বলেন, ‘দলীয় কাউন্সিলারদের মধ্যে কোনও মতবিরোধ নেই। ওপরমহল আগামীতে যা নির্দেশ দেবে তাই মেনে নেওয়া হবে।’
জনপ্রতিনিধিদের একাংশ বিদ্রোহ করে বসে রয়েছেন, অথচ শহর নেতৃত্ব বলছে কোন্দল নেই। এব্যাপারে তাই তৃণমূল কংগ্রেসের উত্তর দিনাজপুরের জেলা সভাপতি কানাইলাল আগরওয়ালের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। তাঁর কথাতেও নির্দিষ্ট দিশার অভাব। তাঁরও দাবি, কাউন্সিলারদের মতবিরোধের ‘চ্যাপ্টার ক্লোজড’।
