ডালখোলা: বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর আদর্শ নির্বাচনী আচরণ বিধি (Mannequin Code of Conduct) জারি হতেই সরগরম উত্তর দিনাজপুরের রাজনৈতিক আঙিনা। করনদিঘি বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী তথা বিধায়ক গৌতম পালের বিরুদ্ধে নির্বাচনী বিধি ভঙ্গের গুরুতর অভিযোগ তুললেন বিজেপি প্রার্থী বিরাজ বিশ্বাস। তাঁর দাবি, আচরণ বিধি অগ্রাহ্য করে নিজের বাসভবনে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষদের নিয়ে টাকা ও বস্ত্র বিলি করেছেন বিধায়ক।
বিজেপির বিস্ফোরক অভিযোগ
শুক্রবার ডালখোলায় এক সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপি প্রার্থী বিরাজ বিশ্বাস একটি ভিডিও প্রদর্শন করেন (যার সত্যতা যাচাই করেনি উত্তরবঙ্গ সংবাদ)। তাঁর অভিযোগ:
- বিধায়ক গৌতম পাল তাঁর বাসভবনে ইমাম ও মোয়াজ্জেম সংগঠনের প্রতিনিধিদের ডেকে খামে করে টাকা ও বস্ত্র বিতরণ করেছেন।
- এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক পত্নী তথা জেলা পরিষদের সভাধিপতি পম্পা পাল।
- বিরাজ বিশ্বাসের প্রশ্ন, নির্বাচন ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পর কীভাবে শাসক দলের প্রার্থী এভাবে টাকা ও বস্ত্র বিলি করেন? এটি পরিষ্কারভাবে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা এবং বিধি লঙ্ঘন।
পম্পা পালকে ব্যক্তিগত আক্রমণ
তৃণমূল প্রার্থীকে আক্রমণের পাশাপাশি জেলা পরিষদের সভাধিপতি পম্পা পালকেও নিশানা করেন বিজেপি প্রার্থী। তাঁর দাবি, পম্পা পাল ভুয়ো তফশিলি জাতি শংসাপত্র ব্যবহার করে ওই পদে আসীন রয়েছেন। এই সামগ্রিক বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কড়া হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তিনি।
পাল্টা যুক্তি তৃণমূল প্রার্থীর
সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বিধায়ক গৌতম পাল জানিয়েছেন, এটি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না। তাঁর দাবি: “এটি রমজান মাস উপলক্ষে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের অরাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের এই মৌলিক অধিকার নির্বাচনী আচরণ বিধির আওতায় পড়ে না। পরাজয় নিশ্চিত জেনে বিজেপি ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে এবং সস্তা প্রচার পেতে ভিডিওটির ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছে।”
আদর্শ আচরণ বিধি লাগু হওয়ার পর এই ধরনের লেনদেন বা বিলি-বণ্টন অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। এখন দেখার, বিজেপি প্রার্থীর এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
