উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বছরের বিভিন্ন সময়ে শুকনো কাশিতে অনেকেই ভুগে থাকেন। একটানা এমন কাশি হতে থাকে যে ওষুধেও সারে না। সেক্ষেত্রে অবহেলা না করে টেস্ট করিয়ে নেওয়া উচিত। কারণ ঠান্ডা লাগা নয় বরং অনবরত কাশির জন্য সিস্টিক ফাইব্রোসিস দায়ী হতে পারে (Cystic Fibrosis)।
সিস্টিক ফাইব্রোসিস একটি বংশগত রোগ। এটি ফুসফুসের ক্ষতি তো করেই, সেইসঙ্গে সেইসব কোষকে প্রভাবিত করে যারা মিউকাস, ঘাম ও পাচক রস উৎপন্ন করে, যা সাধারণত পাতলা ও পিচ্ছিল হয়। কিন্তু যাঁদের সিস্টিক ফাইব্রোসিস রয়েছে তাঁদের ত্রুটিপূর্ণ জিনের কারণে মিউকাস অত্যন্ত আঠালো ও ঘন হয়, যা ফুসফুস ও অগ্ন্যাশয়ের নালিগুলিকে অবরুদ্ধ করে দেয়।
লক্ষণ
শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে লক্ষণ একেকরকম হতে পারে। সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে –
অনবরত কাশি, ব্রংকাইটিস
হাঁটাচলা করা, দৌড়ানো, সিঁড়ি ভাঙার সময় শ্বাসকষ্ট হতে পারে
বারবার ফুসফুসে সংক্রমণ
সেভাবে ওজন না বাড়া বা শারীরিক বিকাশ না হওয়া
সাইনাসের সমস্যা
চর্বিযুক্ত মল ও পেটে ব্যথা
পুরুষদের বন্ধ্যাত্ব এবং মহিলাদের মধ্যে প্রজননক্ষমতা কমে যাওয়া
শরীরে ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতা
পুষ্টিগত ঘাটতির কারণে আঙুলের ডগা ফুলে যাওয়া ও ত্বকে পরিবর্তন
এগুলো ছাড়াও প্রাপ্তবয়স্কদের প্যানক্রিয়াটিস, লিভার ডিজিজ, কিডনিতে পাথর, অ্যানিমিয়া বা অস্টিওপোরোসিস হতে পারে।
কাদের হতে পারে
আগেই বলা হয়েছে রোগটা বংশগত, তাই বাবা-মায়ের এই রোগ থাকলে বাচ্চারও হতে পারে। এটা সিস্টিক ফাইব্রোসিস অটোসোমাল রিসেসিভ (এআর) ইনহেরিটেড ডিজিজ। আমাদের সিএফটিআর নামক জিন রয়েছে। এই জিনে বিভিন্নরকম মিউটেশনের কারণেই এই রোগের সূত্রপাত। যদি পরিবারে কোনও একজনের এই রোগ থাকে তাহলে পরিবারের অন্য সদস্যরাও এতে আক্রান্ত হতে পারেন বা বাহক হতে পারেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রোগের ক্ষেত্রে ফুসফুসের বায়ুথলিগুলি আকারে বড় হয়ে যায়। শ্লেষ্মায় একবার জীবাণুর সংক্রমণ হলে সহজে নিরাময় হয় না, ঘনঘন ব্রংকিওলাইটিস বা নিউমোনিয়া হয় এবং ফুসফুসের ক্ষতি হয়। শিশুর একবার এই রোগ হলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে।
রোগ নির্ণয়
রোগটি সাধারণত জেনেটিক স্টাডির মাধ্যমে বা সোয়েট ক্লোরাইড টেস্টের মাধ্যমে নির্ণয় করা হয় বলে জানিয়েছেন কোচির কনসালট্যান্ট পালমনোলজিস্ট ডাঃ এলিজাবেথ সুনীলা। ঘামে ক্লোরাইডের মাত্রা পরিমাণ ৬০ এমএমওএল/এল হলে শিশুটি সিস্টিক ফাইব্রোসিসে আক্রান্ত বলে ধরে নেওয়া হয়। জেনেটিক পরীক্ষার মাধ্যমে জিনের ত্রুটি শনাক্ত করে রোগটি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়।
চিকিৎসা
এই রোগের জন্য আজীবন বহুমুখী যত্ন প্রয়োজন। যেমন, ফুসফুসে সংক্রমণের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। শ্বাসপ্রশ্বাস সহজে নেওয়ার জন্য ব্রংকোডিলেটর্স দেওয়া হয়। মিউকাস পরিষ্কার করতে চেস্ট ফিজিওথেরাপি করা হয়। প্রয়োজন হলে অক্সিজেন থেরাপি বা নন-ইনভেসিভ ভেন্টিলেশন দিতে হয়। এছাড়া সিএফটিআর মডিউলেটর থেরাপি দিতে হয়। সেইসঙ্গে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামাটরি ড্রাগস, প্যানক্রিয়াটিক এনজাইমস, হাইপারটনিক স্যালাইনও দেওয়া হয়ে থাকে। এই রোগে সারাজীবন ওষুধ খাওয়া ও ফলো আপের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়।
ছোটদের যেভাবে সাবধানে রাখবেন
সময় থাকতে নিউমোনিয়া ও ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা নিয়ে রাখলে ভালো হয়।
শিশুর সামনে ধূমপান এড়িয়ে চলুন। বাইরের ধুলোবালি থেকেও সাবধানে রাখুন খুদেকে।
নিয়মিত শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম করাতে পারেন।
সিস্টিক ফাইব্রোসিস ধরা পড়লে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন
