শুকটাবাড়ি: কড়া নাড়ছে ইদ। আর সেই খুশির আবহে ভালোমন্দ রকমারি পদের সমাহার থাকবে না! তা কি কখনও হয়?
ইদের দিন অতিথি থেকে পরিবারের সকলের পাতে অন্যান্য অনেক পদের সঙ্গে জায়গা করে নেই সেমাইও। এখন বাজারচলতি রংবেরংয়ের লাচ্ছা (সেমাই) পাওয়া যায়। কিন্তু সেসবের বিশেষ চাহিদা নেই কোচবিহারের গ্রামাঞ্চলে। প্রবীণদের কথায়, বাজারে রকমারি সেমাই হয়তো পাওয়া যায়। কিন্তু তাতে ঘরে তৈরি সেমাইয়ের স্বাদ পাওয়া যায় না। নির্ভেজাল এবং অতুলনীয় স্বাদের কারণে ইদের দিন অতিথি আপ্যায়নে এই হাতে তৈরি সেমাইয়েরই চাহিদা বেশি।
হাতে আর মাত্র কয়েকটা দিন। তারপরই খুশির ইদ। তাই মেঘলা আকাশ উপেক্ষা করে কোচবিহার-১ ব্লকের শুকটাবাড়ি, মোয়ামারি সহ বিভিন্ন এলাকায় এখন ঘরে ঘরে হাতে সেমাই বানানোর প্রস্তুতি তুঙ্গে। মহিলারা সংঘবদ্ধভাবে একে অপরের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। ইদের দিন সেমাইয়ের স্বাদ থেকে কোনওভাবেই যেন কাউকে বঞ্চিত হতে না হয়, তারই প্রস্তুতি চলছে।
মোয়ামারির গৃহবধূ রেবেকা খাতুন, সামিরা আখতার, সানজিদা মাসুদরা এদিন অলস দুপুরে বাড়ির এক কোণে সেমাই তৈরিতে ব্যস্ত। কীভাবে তৈরি করেন সেমাই? তাঁরা জানালেন, ময়দা, কাজু এবং বাদাম গুঁড়োর সঙ্গে জল মিশিয়ে প্রথমে মণ্ড তৈরি করা হয়। এরপর হাতের ছোট মেশিনের সাহায্যে প্রয়োজনমতো সরু বা মোটা সেমাই তৈরি করে রোদে শুকিয়ে নিলেই তা খাওয়ার উপযুক্ত হয়ে যায়।
শুকটাবাড়ির আলোনা ইয়াসমিন বলেন, ‘বাজারে রকমারি সেমাই মিললেও তাতে আমাদের মন মজে না। পরিবারের সকলে মিলে সেমাই তৈরির মজাই আলাদা। বাড়ির প্রবীণরাও এই কাজে হাত লাগাচ্ছেন।’ তাঁর সংযোজন, ‘এই সময় সেমাই শুকিয়ে নিচ্ছি। ইদের দিন আট থেকে আশি, সকলেই মজা করে একসঙ্গে সেমাই খাব।’
পিছিয়ে নেই জনপ্রতিনিধিরাও। তাঁরাও সেমাই বানানোর কাজে ব্যস্ত। শুকটাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান আলেয়া বিবি বলেন, ‘বাজারের রঙিন সেমাইয়ের তুলনায় বাড়িতে তৈরি সেমাইয়ের স্বাদের কোনও তুলনাই হয় না। প্রবল ব্যস্ততার মাঝেও বাড়িতেই সেমাই বানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
সব মিলিয়ে, আধুনিকতার চাকচিক্যে প্যাকেটজাত সেমাই বাজার দখল করেছে। স্বাদ এবং ঐতিহ্যের টানে কোচবিহারের গ্রামাঞ্চলে হাতে তৈরি সেমাইয়ের এই বিপুল চাহিদাই বুঝিয়ে দিচ্ছে, উৎসবের আনন্দ আজও নিজস্ব রীতিনীতিতেই লুকিয়ে রয়েছে।
