শিবশংকর সূত্রধর, কোচবিহার: কাণ্ড বটে! চুরির ছয় বছর পর ‘চোর’ বাড়িতে পার্সেল করে জন্ম শংসাপত্র (Beginning Certificates) সহ সরকারি কাগজপত্র পাঠিয়ে দিল। চুরি যাওয়া নিজের কাগজপত্রগুলি ফেরত পেয়ে বিস্ময়ে হাসবেন নাকি অবাক হবেন তা কোচবিহার (Cooch Behar) শহরের অর্ধেন্দু বণিক বুঝেই উঠতে পারছেন না।
এসআইআর (SIR)-এর আবহে জন্ম শংসাপত্র সহ সরকারি কাগজপত্রের প্রয়োজনীয়তা সাধারণ মানুষ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। হয়তো ‘চোর’-ও তা বুঝেছিল। তাই রীতিমতো পার্সেল করে সেগুলি অর্ধেন্দুর কাছে পাঠিয়ে দিয়েছে। ২০১৯ সালে অর্ধেন্দুর বাড়িতে চুরির অভিযোগ ওঠে। অন্যান্য জিনিসের সঙ্গে তাঁর ফাইলও খোয়া যায়। যেখানে তাঁর সমস্ত সরকারি কাগজপত্র রাখা ছিল। সেই সময় পুলিশে লিখিত অভিযোগও করা হয়। এতদিন তা পাওয়া না গেলেও শনিবার বাড়িতে আসা পার্সেল খুলে সেগুলি মেলে। অর্ধেন্দুর কথায়, ‘যে ঠিকানা থেকে পার্সেল পাঠানো হয়েছে সেখানে আমার পরিচিত কেউ নেই। হয়তো এসআইআর-এর কথা ভেবেই চোর আমার কাগজপত্রগুলি ফেরত পাঠিয়েছে।’
কোচবিহার শহরের এনএন রোডের বাসিন্দা অর্ধেন্দু বণিক পেশায় মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ। ২০১৯ সালের চুরিতে তাঁর জন্ম শংসাপত্র, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিকের অ্যাডমিট, প্যান কার্ড – সবই খোয়া যায়। এতদিন সেই ফাইল বা নথির কোনও হদিস মেলেনি। অর্ধেন্দু একপ্রকার আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন। শনিবার অপ্রত্যাশিতভাবে তাঁর বাড়ির ঠিকানায় একটি পার্সেল এসে পৌঁছায়। সেখানে বক্সিরহাটের ঠিকানার উল্লেখ রয়েছে। প্রেরকের নাম-ঠিকানা অপরিচিত হওয়ায় অর্ধেন্দু সংশয়ে পড়েন। তিনি বলেন, ‘বাড়ির সদস্যদের কাছে জিজ্ঞাসা করি। কারও কোনও পার্সেল আসার কথা ছিল না। একবার ভেবেছিলাম পার্সেলের প্যাকেটটি নিয়ে থানায় যাই। তবে শেষপর্যন্ত বাড়িতেই প্যাকেটটি খুলি। তার একটি ভিডিও রেকর্ডিংও করে রাখি। খুলেই দেখি আমার ফাইলটি রয়েছে। ভিতরে হারিয়ে যাওয়া কাগজগুলিও রয়েছে।’ অর্ধেন্দুবাবু আরও বলেছেন, ‘ভাগ্য ভালো যে ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় আমার বাবা–মায়ের নাম রয়েছে। তাই আমার কোনও শংসাপত্র লাগেনি। নাহলে আমার কাগজপত্র না থাকায় এসআইআর-এ আমাকে বিপদে পড়তে হত। এই নথিগুলো জোগাড় করা এখনকার দিনে কতটা কঠিন তা হয়তো চোর নিজেও উপলব্ধি করেছে। তাই বিবেকের দংশন থেকেই হয়তো সে পার্সেল করে এসব পাঠিয়ে দিয়েছে।’
বাড়িতে কে বা কারা চুরি করেছিল এবং কে এই পার্সেল পাঠাল তা এখনও অজানা। তবে এই ঘটনা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন, অপরাধী হলেও মানুষ হিসেবে ওই চোর যেটুকু সৌজন্য দেখিয়েছে, তা বিরল। হারিয়ে যাওয়া অতিপ্রয়োজনীয় নথিগুলো হাতে পেয়ে অর্ধেন্দু এখন অনেকটাই স্বস্তিতে। বিস্ময় আর হাসি, দুই মিলিয়ে তিনি আপাতত ঘোরের মধ্যেই রয়েছেন।
