কোচবিহার: কোচবিহার পুর এলাকার সংগৃহীত সব বর্জ্য এমাসের শেষের দিক থেকে আলিপুরদুয়ারের ডাম্পিং গ্রাউন্ডে ফেলা হবে। রাজ্য নগর উন্নয়ন সংস্থা (সুডা) এমনই নির্দেশ দিয়েছে। কোচবিহার পুরসভার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন আমিনা আহমেদ এনিয়ে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের কর্মী, আধিকারিকদের সঙ্গে শনিবার বৈঠকও করেন। বৈঠকে পুরসভার আধিকারিক ও কাউন্সিলাররাও উপস্থিত ছিলেন।
বিষয়টি নিয়ে আলিপুরদুয়ার পুরসভার চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ কর বলেন, ‘কিছু চিঠি এসেছে। তবে আমি বাইরে থাকার কারণে চিঠিগুলি এখনও দেখা হয়নি। ফিরে সেগুলি দেখব।’ প্রসঙ্গক্রমে তিনি জানান, কোচবিহার পুরসভার সঙ্গে এই নিয়ে এখনও কোনও কথা হয়নি। ভাইস চেয়ারপার্সন মাম্পি অধিকারী বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তাই এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করব না।’ আলিপুরদুয়ারের ডাম্পিং গ্রাউন্ড শহর থেকে ৮-১০ কিলোমিটার দূরে মাঝেরডাবরি চা বাগান এলাকায় রয়েছে।
কোচবিহার পুরসভায় বৈঠকের পর আমিনা বলেন, ‘কোচবিহার ডাম্পিং গ্রাউন্ডে খুব শীঘ্রই রাজ্য নগর উন্নয়ন সংস্থার তরফে প্রসেসিং ইউনিট তৈরি করা হবে। ফলে ভাগাড়টি পরিষ্কার করতে হবে। তাই সেখানে আর আবর্জনা ফেলা যাবে না।’ তিনি জানান, কোচবিহার শহরের সমস্ত বর্জ্য গাড়ি করে নিয়ে গিয়ে প্রতিদিন আলিপুরদুয়ার জেলার মাঝেরডাবরি ভাগাড়ে ফেলা হবে।
কোচবিহার পুরসভায় বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫৬ টন বর্জ্য তৈরি হয়। এরজন্য প্রতিদিন প্রায় ৪১টি গাড়ি ব্যবহার করে পুরসভা। প্রশ্ন উঠেছে কোচবিহার শহর থেকে প্রতিদিন এই বর্জ্য প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে নিয়ে গিয়ে ফেলা নিয়মিত সম্ভব হবে কি না। তাছাড়া আলিপুরদুয়ার জেলার স্থানীয় বাসিন্দারা তা মেনে নেবেন কি না।
কোচবিহারের নিজস্ব ভাগাড়েই বর্জ্য ফেলার জন্য পুরসভার গাড়ি শহরের মধ্য দিয়ে যাবার সময় নানা কারণে বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সেখানে অন্য জেলার বর্জ্য আলিপুরদুয়ার জেলার মধ্য দিয়ে নিয়ে যাবার সময় এই সমস্যা আরও বেশি হতে পারে বলেই ধারণা। তারপরেও মাঝেরডাবরির ভাগাড়ের প্রসেসিং ইউনিটে বর্জ্য শুধু নিয়ে গিয়ে ফেললেই হবে না। পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য পৃথক করে নিয়ে গিয়ে ফেলতে হবে। এরসঙ্গে বিপুল পরিমাণ এই বর্জ্য প্রতিদিন একাধিক গাড়িতে করে নিয়ে মাঝেরডাবরির ডাম্পিং গ্রাউন্ডে ফেলতে যে পরিমাণ তেল খরচ হবে সেই টাকাই বা আসবে কোথা থেকে?
বকুলতলা এলাকায় কোচবিহার পুরসভার ভাগাড় শহর থেকে কমবেশি ৫ কিলোমিটার দূরে। গাড়িতে সেখানে বর্জ্য ফেলতে পুরসভার মাসে তেল খরচ হয় সাড়ে ৭ লক্ষ টাকা। সেখানে মাঝেরডাবরি ভাগাড়টি কোচবিহার শহর থেকে কমবেশি ৩০-৩৫ কিলোমিটার দূরে। সেখানে বর্জ্য ফেলতে প্রতিমাসে কোচবিহার পুরসভার ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকার তেল প্রয়োজন।
পুরসভার সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের নোডাল ইঞ্জিনিয়ার বাদল সরকার বলেন, ‘সুডার ডিরেক্টর ও অ্যাডিশনাল সেক্রিটারি জলি চৌধুরী দু’দিন আগে আমাকে ফোন করে কোচবিহারের ভাগাড়ে বর্জ্য না ফেলে আলিপুরদুয়ারের ভাগাড়ের প্রসেসিং ইউনিটে নিয়ে গিয়ে ফেলতে বলেছেন। এরজন্য পরিবহণ বাবদ অতিরিক্ত যে খরচ হবে তা সরকার বহন করবে বলে জানিয়েছেন।’ কোচবিহারের ভাগাড়ে যে প্রসেসিং ইউনিট তৈরি হবে তা করতে ১০-১২ কোটি টাকা খরচ হবে বলে পুরসভা সূত্রে জানানো হয়েছে।
The submit Cooch Behar | জঞ্জাল জমবে আলিপুরদুয়ারে! কেন? appeared first on Uttarbanga Sambad.
