কোচবিহার, ২২ ফেব্রুয়ারি : ১ মার্চ কোচবিহারে আসছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। মদনমোহনবাড়িতে পুজো দেওয়ার পর রাসমেলা মাঠে জনসভা করবেন। সেদিনই তিনি পরিবর্তন সংকল্প রথযাত্রার সূচনা করবেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কোচবিহারে এই কর্মসূচির সূচনা করবেন বলে জল্পনা চলছিল। তবে বিজেপি নেতৃত্ব জানিয়েছে, মোদি নয় নীতিন আসছেন কোচবিহারে। কর্মসূচির প্রশাসনিক অনুমতি নিয়ে জলঘোলা শুরু হয়েছে। বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেছেন, ‘নীতিন নবীনের কর্মসূচির জন্য কেন্দ্রীয়ভাবেই পুলিশের কাছে অনুমতি চাওয়া হবে।’ তবে অনুমতি না পেলে আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে পদ্ম শিবির।
বিধানসভা নির্বাচনের আগে কোচবিহারে নিজেদের রাজনৈতিক জমি পুনর্দখল করতে কোমর বেঁধে নামছে বিজেপি। মাসখানেক আগে দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ সহ একাধিক রাজ্য নেতৃত্ব কোচবিহারে জনসভা করে গিয়েছেন। এবার কেন্দ্রীয় স্তরের একেবারে শীর্ষ নেতা নীতিন নবীন আসছেন এখানে। তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করেছে গেরুয়া শিবির।
কয়েকদিন আগেই শমীক ভট্টাচার্য ‘পরিবর্তন সংকল্প রথযাত্রা’ কর্মসূচির ঘোষণা করেছেন। উত্তরবঙ্গে যে রথটি ঘুরবে তার সূচনা হবে কোচবিহার থেকে। বিভিন্ন বিধানসভা এলাকা ঘুরে কোচবিহার থেকে আলিপুরদুয়ারে যাবে রথটি। নেতারা আগেই জানিয়েছিলেন, কর্মসূচির সূচনার জন্য কেন্দ্রীয় স্তরের হেভিওয়েট নেতাদের কেউ আসবেন। তবে এদিনই নীতিন নবীনের নাম চূড়ান্ত হয়েছে।
কোচবিহারে বিজেপির ছয়জন বিধায়ক রয়েছেন। অর্থাৎ এই জায়গা বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবেই পরিচিত। তবে গত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী নিশীথ প্রামাণিকের হারের পর বিজেপি তাদের শক্তি অনেকটাই হারিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাদের শক্তি কতটা পুনরুদ্ধার হবে তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছে। যদিও চেষ্টার কোনও ত্রুটি রাখতে চাইছে না পদ্ম শিবির। ভোটব্যাংক বাড়াতে ও দলীয় কর্মীদের চাঙ্গা করতে নানা কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। ‘পরিবর্তন সংকল্প রথযাত্রা’-য় নীতিন নবীনের অংশ নেওয়া তারই একটি অংশ।
তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য বিজেপির এই কর্মসূচিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ। শাসকদলের মতে, রথযাত্রার নামে বিজেপি জেলায় অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করছে। সেক্ষেত্রে প্রশাসন তার নিয়ম মেনেই কাজ করবে। তৃণমূলের কোচবিহার জেলার চেয়ারম্যান গিরীন্দ্রনাথ বর্মনের কথায়, ‘বিজেপি সাধারণ মানুষের জন্য একটিও কাজ করেনি। এখন ওদের যত বড় নেতাই আসুন না কেন কোনও লাভ হবে না।’ সব মিলিয়ে, নীতিন নবীনের কোচবিহার সফরকে কেন্দ্র করে কোচবিহারের রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে।
