কোচবিহার: গত বছর পাওয়া গিয়েছিল মাত্র ৫০ শতাংশ। এবার রাজ্যজুড়ে স্কুলগুলিতে কম্পোজিট গ্র্যান্টের বরাদ্দ তারও অর্ধেক হয়ে গেল। আর এতেই কোচবিহার জেলার সব স্কুল কর্তৃপক্ষের মাথায় হাত পড়েছে। পুজোর ছুটিতে স্কুল বন্ধ হওয়ার আগে গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাজ্য সমগ্র শিক্ষা মিশনের তরফে জেলার সরকারি, সরকার পোষিত প্রাথমিক, উচ্চপ্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্কুলগুলিতে কম্পোজিট গ্র্যান্ট সংক্রান্ত একটি নির্দেশনামা এসে পৌঁছোয়। তাতে বলা হয়, এবছর স্কুলগুলির জন্য কম্পোজিট গ্র্যান্টের মাত্র ২৫ শতাংশ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
বছর দুয়েক বাদে গতবার গোটা রাজ্যের পাশাপাশি কোচবিহার জেলার স্কুলগুলিও কম্পোজিট গ্র্যান্টের ৫০ শতাংশ টাকা পেয়েছিল। তাতেই সুষ্ঠুভাবে স্কুল চালাতে ব্যাপক সমস্যায় পড়েছিল কর্তৃপক্ষ। ফলে মনে করা হয়েছিল এবার প্রাপ্য ১০০ শতাংশ টাকা প্রদান করা হবে। কিন্তু নতুন নির্দেশনামায় সকলে আরও হতাশ। স্কুলগুলির দাবি, ৫০ শতাংশ টাকাতেই স্কুলের খরচ জোগানো যাচ্ছিল না। শিক্ষকদের নিজেদের পকেট থেকে টাকা খরচ করতে হয়েছে। তাহলে এবার মাত্র ২৫ শতাংশ টাকা দিয়ে খরচ চলবে কীভাবে? এই সিদ্ধান্তে স্পষ্ট যে রাজ্য সরকার এখন আর স্কুলশিক্ষাকে প্রাধান্য দিতে চাইছে না বলেও দাবি অনেকের। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে স্কুল কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনগুলিও। যদিও এবিষয়ে সমগ্র শিক্ষা মিশনের কোচবিহার ডিস্ট্রিক্ট এডুকেশন অফিসার মহাদেব শৈবকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।
এনিয়ে বক্সিরহাট হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক তথা মাধ্যমিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সম্পাদক সুরজিৎ পণ্ডিতের কথায়, ‘আমাদের স্কুলে ১৬০০ পড়ুয়া রয়েছে। অন্যান্য খরচ যদি বাদও দিই তাও প্রতিবছর আমাদের স্কুলে বিদ্যুতের বিল আসে প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকারও বেশি। কম্পোজিট গ্র্যান্টে ১ লক্ষ টাকা পেতাম। তার সঙ্গে কিছু টাকা দিয়ে বিদ্যুতের বিল দিতাম। এখন যদি আমরা মাত্র ২৫ হাজার টাকা পাই তাহলে বিদ্যুতের বিলই বা দেব কোথা থেকে আর স্কুলের অন্যান্য খরচই বা চালাব কীভাবে?’ অন্যদিকে, রাজ্য সরকার শিক্ষাকে প্রাধান্য না দিয়ে মেলা, খেলা ও কার্নিভালকে প্রাধান্য দিতে চায় বলে ক্ষোভ উগরে দিলেন নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দীপক সরকার। অন্যদিকে, বঙ্গীয় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির জেলা সম্পাদক পার্থপ্রতিম ভট্টাচার্য জানালেন, এত কম টাকা বরাদ্দ করায় স্কুলগুলির পরিকাঠামো পুরোপুরি ভেঙে পড়বে। একই মত পূর্ব হাড়িভাঙ্গা ফোর্থ প্ল্যান প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক তপন ভৌমিক কিংবা গুঞ্জবাড়ি প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক অপু চক্রবর্তীরও।
জেলা শিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, কোচবিহারে মোট ১৮৫৩টি প্রাথমিক, ৩০০টির মতো উচ্চপ্রাথমিক, ৪১টি মাধ্যমিক ও ২০৯টি উচ্চমাধ্যমিক স্কুল রয়েছে। স্কুলগুলির জন্য সরকারের তরফে প্রতি বছর কম্পোজিট গ্র্যান্ট দেওয়া হয়। স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যার হিসাবে টাকার পরিমাণ নির্ধারিত হয়। স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা ১ থেকে ৩০-এর মধ্যে হলে বছরে ১০ হাজার টাকা পাওয়া যায়। সেভাবেই ৩১ থেকে ১০০ জন হলে ২৫ হাজার ১০১-২৫০ হলে ৫০ হাজার, ২৫১-১০০০ হলে ৭৫ হাজার টাকা মেলে। আবার পড়ুয়া হাজারের বেশি হলে বছরে ১ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়। এই অর্থে স্কুলের বিদ্যুতের বিল, প্রশ্নপত্র ছাপানো, চক-ডাস্টার সহ প্রয়োজনীয় জিনিস কেনা, স্কুল পরিষ্কার রাখা, ছোটখাটো মেরামত সহ নানা কাজ চলে।
