Cooch Behar | অবহেলায় পার্কগুলি, সৌন্দর্য হারাচ্ছে কোচবিহার

Cooch Behar | অবহেলায় পার্কগুলি, সৌন্দর্য হারাচ্ছে কোচবিহার

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


কোচবিহার: সুন্দর সাজানো শহরের জন্য কোচবিহারকে বলা হত ‘সিটি অফ বিউটি’। রাজআমলে শহরজুড়ে ছিল অসংখ্য বাগান। সে সময়ের প্রচুর বাগান আজ হারিয়ে গিয়েছে। কিছু নতুন বাগান তৈরি হয়েছে বটে কিন্তু দায় ঠেলাঠেলির যুগে বাগানগুলির কোনওরকম পরিচর্যা আর হয় না। বাগানগুলি পড়ে রয়েছে অবহেলায়।

এনএন পার্ক এবং রানিবাগান বাদে রয়েছে প্রচুর ছোট বাগান। বেশ কিছু দপ্তরে বাগানের জায়গা ঘেরা থাকলেও, সেখানে অবহেলার চিহ্ন স্পষ্ট। জেলা শাসকের দপ্তরের বাগানে কিছু গাছ থাকলেও প্রয়োজনীয় পরিচর্যা, নজরদারি নেই। একই অবস্থা জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের ভিতরের বাগানের। বহু বছর অবহেলায় পড়ে থাকলেও সদ্য সংস্কার হয়েছে কল্যাণ ভবন বা মতি ভবনের ছোট্ট বাগান। সাগরদিঘির উত্তর পাড়ে মহারাজা নৃপেন্দ্রনারায়ণ ভূপ বাহাদুরের মূর্তির চারপাশে যে বাগানটি রয়েছে, তা আরও সুন্দর করা যায়। বাগানটির দায়িত্বে রয়েছে বন দপ্তরের পার্কস অ্যান্ড গার্ডেন্স বিভাগ। কিছুটা হলেও সাজানো রয়েছে ক্ষুদিরাম মূর্তির নীচের ছোট্ট বাগানটি। কিন্তু প্রশাসনিক সমস্ত অনুষ্ঠান যেখানে হয়, সেই উৎসব অডিটোরিয়ামের সামনের বাগানের অবস্থা করুণ। আগাছা আর জঙ্গলের ভিড়ে হারিয়ে গিয়েছে বাগানটির মূল সত্তা। তিনটি ফোয়ারা থাকলেও কোনওটিই আর কর্মক্ষম নেই। দেওয়ালের ওপর বাতিস্তম্ভে জড়িয়ে লতাপাতা। অযত্নের কারণ জানতে চাইলে জেলা শাসকের দপ্তরের এক আধিকারিক বললেন, ‘আমরা বাগান পরিষ্কারের ব্যবস্থা করব।’

কিছুটা পরিচর্যার মধ্যে রয়েছে শিব মন্দির সংলগ্ন বাগানটি। এটি দেবত্র ট্রাস্ট বোর্ড দেখাশোনা করে। পুরসভার সামনে থাকা শহিদবাগের বাগানকে আর বাগান বলা যায় না। আইনজীবী শিবেন্দ্রনাথ রায়ের কথায়, ‘শহিদবাগের অবস্থা খারাপ। মেরামত করা দরকার। বাগানটির দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। ছোট বিষয়গুলির ওপর নজর দিলে শহর সুন্দর করে সেজে উঠতে পারে।’ স্মৃতির পাতা উলটে অরূপজ্যোতি মজুমদার বললেন, ‘ছোটবেলায় দেখেছি সাগরদিঘির দক্ষিণ-পূর্ব কোণে বোগেনভিলিয়া গাছ। একটা আলাদা সৌন্দর্য নিয়ে আসত। ট্রেজারির সামনে ছিল ছোট কামিনী ফুলের অসংখ্য গাছ। বর্ষায় ফুলের গন্ধে ম-ম করত। এখনও যে বাগানগুলি রয়েছে, তাতে বিভিন্ন ফুল লাগালে শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে।’ ব্যাংচাতরা রোডের পাশে রাসমেলা মাঠের পশ্চিম দিকে রয়েছে পঞ্চানন বর্মার মূর্তি সংলগ্ন বাগান। বাগানটি আরও সুন্দর করা যায়। পুরসভার তরফে সুনীতি রোডে ডিভাইডার করার সময় মাঝখানে প্ল্যান্টার বেড বানানো হয়েছিল। সেখানে বেশকিছু গাছ লাগানো হয়েছে, কিছু ফুল ফুটেছে। কিন্তু অযত্নের ছাপ স্পষ্ট। পার্কস অ্যান্ড গার্ডেন্সের ডিএফও মৃণালকান্তি রায় বললেন, ‘ওই সব ছোট বাগানগুলি থেকে আমাদের কোনওরকম আয় হয় না। ফান্ড এলে তবেই বাগানগুলি সঠিক পরিচর্যা করা সম্ভব।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *