Cooch Behar | শিক্ষক সংকটে বিপর্যস্ত ৪ সরকারি স্কুল

Cooch Behar | শিক্ষক সংকটে বিপর্যস্ত ৪ সরকারি স্কুল

খেলাধুলা/SPORTS
Spread the love


কোচবিহার: ‘ধার’ করা শিক্ষক দিয়েই বর্তমানে কোচবিহারে চারটি সরকারি স্কুলের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ের ক্লাস চলছে। কোনও কোনও স্কুলে কয়েকটি বিষয় পড়ানোর অনুমতি থাকলেও বিভাগীয় শিক্ষক না থাকায় সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি পড়ানো দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রাখা হয়েছে। এর জেরে পড়ার প্রবল ইচ্ছে থাকলেও সেই সুযোগ থেকে পড়ুয়ারা বঞ্চিত হচ্ছে। বর্তমানে স্কুলগুলিতে উচ্চমাধ্যমিকের দ্বিতীয় ও চতুর্থ সিমেস্টারের প্র্যাকটিকাল পরীক্ষা চলছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলিতে স্থায়ী শিক্ষক না থাকায় অন্য বিভাগের কিংবা বাইরের স্কুলের শিক্ষকদের সহায়তায় এই পড়ুয়াদের প্র্যাকটিকাল ক্লাস এবং পঠনপাঠন চলছে।

বিভাগীয় শিক্ষক না থাকায় পড়ুয়াদের পাশাপাশি অভিভাবকরাও রীতিমতো ক্ষুব্ধ। সদর গভর্নমেন্ট হাইস্কুলের এক ছাত্রের অভিভাবক অঞ্জনা দে বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে শিক্ষক না থাকায় পড়ুয়াদের খুব সমস্যায় পড়তে হয়েছে। আমার ছেলের কম্পিউটার সায়েন্স বিষয়টি থাকলেও এই বিভাগে কোনও শিক্ষক নেই। অবাক করার বিষয় বলতে, এ নিয়ে কারও কোনও হেলদোলও নেই।’ জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) সমরচন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘সরকারি স্কুলের বিষয়টি বিকাশ ভবন থেকে দেখা হয়। আমাদের কিছু করার নেই।’ বৃহস্পতিবার জেলা শাসক রাজু মিশ্রকে বহুবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া না দেওয়ায় তাঁর প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

শহরের ঐতিহ্যবাহী জেনকিন্স স্কুলে রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সুনীতি অ্যাকাডেমিতে দর্শন এবং মহারানি ইন্দিরা দেবী বালিকা বিদ্যালয়ে দর্শন, মিউজিক, এডুকেশন, ফিজিকাল এডুকেশন এবং স্ট্যাটিস্টিক্স বিষয়ে একজনও শিক্ষক নেই। মহারানি ইন্দিরা দেবী বালিকা বিদ্যালয়ে এতদিন কখনও জেনকিন্স কিংবা অন্য স্কুলের শিক্ষক নিয়ে এসে দর্শন এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ক্লাস হত। তবে শিক্ষক না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে সেখানে এডুকেশন, ফিজিকাল এডুকেশন এবং স্ট্যাটিস্টিক্স বিষয় পড়ানো বন্ধ রয়েছে। সুনীতি অ্যাকাডেমির দর্শন বিভাগেও একই দশা। জেনকিন্স স্কুলের দর্শন বিভাগের শিক্ষক সুনীতি অ্যাকাডেমির ছাত্রীদের ক্লাস নেন।

মহারানি ইন্দিরা দেবী বালিকা বিদ্যালয়ে শিক্ষিকাদের জন্য মোট ৩৫টি পদের অনুমোদন থাকলেও বর্তমানে সেখানে মাত্র ১১ জন রয়েছেন। সমস্যার বিষয়টি স্বীকার করে নিয়ে প্রধান শিক্ষিকা সাগরিকা দত্ত বলেন, ‘স্কুলে শিিক্ষকার অভাব দীর্ঘদিনের। একাধিক বিষয়ে শিিক্ষকা না থাকায় অন্য স্কুল থেকে নিয়ে এসে আমাদের ক্লাস করাতে হচ্ছে। কয়েকটি বিষয়ে শিিক্ষকা না থাকায় সেগুলি আপাতত বন্ধই রাখতে হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’ জেনকিন্স স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক শংকর দত্ত বলেন, ‘বর্তমানে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে আমাদের একজনও শিক্ষক নেই। বিষয়টি নিয়ে খুব শীঘ্রই আমরা চিঠি পাঠাব।’

গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে সদর গভর্নমেন্ট হাইস্কুলে বায়োলজি বিভাগের কোনও শিক্ষক নেই। বিজ্ঞান বিভাগের জনা ত্রিশেক পড়ুয়ার এই বিষয়টি থাকলেও বিভাগীয় শিক্ষক না থাকায় তারা চরম সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। এদিকে আইসিটির শিক্ষক দিয়ে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন এবং কম্পিউটার সায়েন্সের ক্লাস করানো হলেও বছরখানেকের বেশি সময় ধরে সেই বিভাগেও কোনও শিক্ষক নেই। স্কুল সূত্রে খবর, ফিজিক্স বিভাগের শিক্ষক আপাতত কম্পিউটার ক্লাসের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক প্রিয়তোষ সরকার বললেন, ‘তিনটি বিষয়ে আমাদের কোনও শিক্ষক নেই। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে শিক্ষক না থাকায় ছাত্রদের খুব সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রের কথায়, ‘শিক্ষক না থাকায় টিউশন পড়েই পরীক্ষায় বসতে হয়েছে। ছাত্রস্বার্থের কথা মাথায় রেখে কর্তৃপক্ষের এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’ দ্রুত সমস্যা মেটাতে দাবি জোরালো হয়েছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *