কোচবিহার: বন্ধুর বিবাহবার্ষিকী। কী উপহার দেওয়া যায় চিন্তা করতে করতে কোচবিহারের (Cooch Behar) বাসিন্দা দীপ্ত সরকার পৌঁছান সিলভার জুবিলি রোডের ধারে ফুলের বাজারে। দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে তাঁর চোখে পড়ে সেখানে থরে থরে সাজানো গোলাপ, রজনীগন্ধা, জারবেরা। সেইসঙ্গে রয়েছে আরেকটি ফুল— পদ্ম। সামনে কোনও পুজোপার্বণ নেই অথচ দোকানে পদ্ম ফুল দেখে খানিকটা অবাক হন দীপ্ত। দোকানে তৈরি করে রাখা ফুলের বোকেগুলিতে নজর পড়তে তিনি যেন আরও অবাক হয়ে যান। সেখানে গোলাপ, জারবেরা, অর্কিডের পাশাপাশি স্থান পেয়েছে পদ্মও। এর আগে বোকেতে তিনি কখনও এই ফুলটি দেখেননি। মনে মনে তাঁর আর বুঝতে বাকি থাকল না যে, রাজনীতির ছোঁয়া ফুলের বোকের ডিজাইনেও লেগেছে।
রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের হাওয়া যেন ফুলের বাজারে লেগেছে। পালাবদলের আগে কোচবিহারের ফুলের বাজারে পদ্মের দেখা মিলত কোনও পুজো ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সময়। তবে এখন কলকাতা, নদিয়ার বাজার থেকে নিয়মিত শহরে পদ্ম ফুলের আমদানি হচ্ছে। যেখানে বোকে তৈরিতে গোলাপ, রজনীগন্ধা, জারবেরা, লিলি, অর্কিডের একচেটিয়া দাপট ছিল, এখন সেখানে দেখা মিলছে পদ্মের। শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, ব্যক্তিগত বা পারিবারিক অনুষ্ঠানে ব্যবহারের জন্য ক্রেতাদের মধ্যে অনেকে বোকেগুলিতে পদ্ম রাখার আবদার জানাচ্ছেন।
একটু অন্য রকম দেখতে বলে দীপ্ত নিজেও বেছে বেছে একটি বোকে কিনলেন, যার মাঝে রয়েছে পদ্ম ফুল। হাসিমুখে তিনি বললেন, ‘এখন ফুলের বোকেতেও পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে। আগে আমি কখনও বোকেতে পদ্ম দেখিনি। তাই বন্ধুর বিবাহবার্ষিকীতে দেওয়ার জন্য পদ্ম ফুল দেওয়া একটা বোকে নিলাম।’
ফুল বিক্রেতারা জানান, আকৃতি অনুযায়ী একেকটি পদ্ম (Lotus) ফুল ৩০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্য ফুলের সঙ্গে একটি পদ্ম ফুল দেওয়া বোকের দাম শুরু হচ্ছে ১৫০ টাকা থেকে। বিয়ের দিনগুলিতে সবচেয়ে বেশি এই ধরনের বোকেগুলি বিক্রি হয়। সিলভার জুবিলি রোডের এক ফুল বিক্রেতা রাজু ঘোষ বললেন, ‘আগে দুর্গাপুজো, লক্ষ্মীপুজো বা অন্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সময় ছাড়া পদ্ম খুব একটা বিক্রি হত না। কিন্তু মাসখানেক ধরে রোজই কয়েকটা পদ্ম ফুল বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারাও দোকানে এসে পদ্মের খোঁজ করছেন। চাহিদা থাকায় আমরাও পদ্ম ফুল দিয়ে বোকে তৈরি করে দিচ্ছি।’ আরেক ফুল বিক্রেতা অরূপ রায় কর্মকার জানান, কোচবিহারের বাজারে সাধারণত কলকাতা, নদিয়া ও বেঙ্গালুরু থেকে ফুল আমদানি হয়। স্থানীয় কিছু জায়গায় চাষ হলেও এই পদ্মগুলি মূলত কলকাতা থেকে আনা হচ্ছে।
