সানি সরকার, শিলিগুড়ি: সাগরে গর্ভস্থ ঘূর্ণিঝড় জন্মের অপেক্ষায়। সাম্প্রতিক দুর্যোগের টাটকা ক্ষতচিহ্নের মধ্যেই প্রশ্ন উঠছে, আবার কি বিপর্যয়? আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আপাতত বিপর্যয়ের তেমন কোনও সম্ভাবনা নেই, তবে মাসের শেষে ভিজবে উত্তরবঙ্গের (North Bengal) প্রতিটি জেলা, আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতিতে তা স্পষ্ট। পাহাড় থেকে সমতল, বিক্ষিপ্তভাবে কয়েকটি এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝোড়ো বাতাস বইতে পারে। ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আর তা হলেই রাতের সঙ্গে দিনের তাপমাত্রার পরিবর্তন ঘটবে (Climate Replace)।
বর্ষা বিদায় নিলেও বাংলায় নতুন করে দুর্যোগের আশঙ্কা। এর মূলে রয়েছে বঙ্গোপসাগরের তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড়। শুক্রবার সকালেই দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের ওপর নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরি হয়। শনিবার যা নিম্নচাপে পরিণত হয়ে গিয়েছে। রবিবার গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে সাগরে গর্ভস্থ ঘূর্ণিঝড়ের জন্ম নেওয়া এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। সোমবার দক্ষিণ-পূর্ব এবং সংলগ্ন পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়া একপ্রকার নিশ্চিত। ফলে উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে আগাম সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে উত্তরবঙ্গের আট জেলাতেও। ঘূর্ণিঝড়টি উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অর্থাৎ অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওডিশা উপকূলে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা প্রবল। ফলে সরাসরি তার প্রভাব উত্তরবঙ্গে পড়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। কিন্তু পরোক্ষ প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন আবহবিদরা। ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ার পর পুঞ্জীভূত মেঘ যেহেতু চারদিকে ছড়িয়ে পড়বে, ফলে কিছুটা হলেও ভিজবে গঙ্গা থেকে সংকোশের মাঝের জনপদ।
কোথায় কেমন বৃষ্টি হতে পারে? আবহাওয়ার বর্তমান যা অবস্থান, তাতে আগামী ৩০ অক্টোবর দার্জিলিং, কালিম্পং এবং কোচবিহারে বজ্রবিদ্যুৎ সহ হালকা বৃষ্টি হতে পারে। ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার গতিবেগে বইতে পারে হাওয়া। তার ২৪ ঘণ্টা আগে অর্থাৎ ২৯ অক্টোবর জলপাইগুড়ি ও উত্তর দিনাজপুরে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির আভাস রয়েছে। ৩০ ও ৩১ অক্টোবর এই দুই জেলার দু’একটি এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সতর্কতা রয়েছে। বৃষ্টি হবে মালদা ও দক্ষিণ দিনাজপুরেও।
এনিয়ে আবহাওয়া দপ্তরের সিকিমের কেন্দ্রীয় অধিকর্তা গোপীনাথ রাহার বক্তব্য, ‘বুধবার থেকে আবহাওয়া পরিবর্তনের পূর্বাভাস রয়েছে। পরবর্তী দু’দিন কয়েকটি জায়গায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বাকি এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে রাতের সঙ্গে দিনের তাপমাত্রাও কিছুটা হ্রাস পাবে। তবে শীতের প্রকোপ বাড়বে, এমনটা এখনই বলা যাচ্ছে না।’
কিন্তু পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমের পরিবর্তে যদি ঘূর্ণিঝড়টির অভিমুখ শেষপর্যন্ত উত্তর দিক হয়ে পড়ে, যেমনটা ৪ অক্টোবর হয়েছিল নিম্নচাপের ক্ষেত্রে, তাহলে কী হবে? ফের কি চরম মূল্য দিতে হবে উত্তরবঙ্গকে?
উত্তর লুকিয়ে সাগরের গর্ভেই।
