Climate Replace | ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস উত্তরে, পাঁচ জেলায় কমলা সতর্কতা জারি 

Climate Replace | ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস উত্তরে, পাঁচ জেলায় কমলা সতর্কতা জারি 

খেলাধুলা/SPORTS
Spread the love


সানি সরকার, শিলিগুড়ি: সেবক ফাঁড়িতে একের পর এক ফোন। প্রশ্ন একটাই, সিকিমে কি আবার কোনও লেক বিপর্যয় ঘটেছে। মেঘভাঙা বৃষ্টি, নাকি লেক বিপর্যয়, জানতে চেয়ে ফোন বেজেছে আবহাওয়া দপ্তরের গ্যাংটক কেন্দ্রেও। মঙ্গলবার তিস্তাকে নতুন করে ‘ত্রাস’ হতে দেখে ’২৩-এর সাউথ লোনাক লেক বিপর্যয়ের স্মৃতিতে এমনভাবেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন নদীপাড়ের বাসিন্দারা। যদিও ‘কোনও বিপর্যয় নয়, সিকিমে বৃষ্টিতে এমন পরিস্থিতি’ উত্তর পেয়ে কিছুটা হলেও আশ্বস্ত হয়েছেন তাঁরা। কয়েক ঘণ্টা জাতীয় সড়ক বন্ধ থাকা ছাড়া বড় ধরনের বিপর্যয় না ঘটায়, কিছুটা হলেও নিশ্চিন্ত কালিম্পং জেলা প্রশাসন। কিন্তু নিরাপদ-নিশ্চিন্তে কতদিন, এই প্রশ্নটা বড় হয়ে উঠছে। কেননা, উত্তরের (Climate Replace) আকাশে নতুন করে মেঘ ঘনাচ্ছে।

বিহার থেকে মণিপুর পর্যন্ত একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখার প্রভাবে সোমবার প্রবল বৃষ্টির বিপর্যস্ত হয়েছে সিকিম। রাস্তা দিয়ে জল প্রবাহিত হওয়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বন্ধ থেকেছে জাতীয় সড়ক। তিস্তার জলোচ্ছ্বাসে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে জলপাইগুড়ি জেলার তিনটি ব্লকে। এরই মধ্যে মৌসুমি অক্ষরেখা স্বাভাবিক অবস্থান থেকে উত্তরে সরতে শুরু করছে, ফলে হিমালয় সংলগ্ন উত্তরবঙ্গের (North Bengal Climate Replace) দুয়ারে প্রবল দুর্যোগ। আবহাওয়ার পূর্বাভাস যা, তাতে নতুন মাসের প্রথম দিন থেকেই দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার এবং জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টির শুরু হয়ে যাবে। শুধু হিমালয় সংলগ্ন উত্তরবঙ্গ নয়, সিকিম পাহাড়েও প্রবল বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। সময়ের সঙ্গে বৃষ্টির ব্যপ্তি এবং তীব্রতা বাড়ার সম্ভাবনা থাকায় ২ অগাস্ট থেকে টানা তিনদিন উত্তরবঙ্গের পাঁচটি জেলার জন্য এখনই কমলা সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর। কমলা সতর্কতা রয়েছে সিকিম পাহাড়েও। আবহাওয়া দপ্তরের সিকিমের কেন্দ্রীয় অধিকর্তা গোপীনাথ রাহার বক্তব্য, ‘মৌসুমি অক্ষরেখার প্রভাবেই আগামী কয়েকদিন সিকিম এবং হিমালয় সংলগ্ন উত্তরবঙ্গে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। প্রবল বর্ষণের আশঙ্কায় সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে জেলা প্রশাসনগুলিকে।’ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের তরফে সমস্তরকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান কালিম্পংয়ের জেলা শাসক বালা সুব্রহ্মণিয়ান টি। তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে। বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে নদী সংলগ্ন এবং ধসপ্রবণ এলাকাগুলিতে। বিপর্যয় মোকাবিলার সঙ্গে যুক্ত দপ্তরগুলিকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।’ আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কতায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে অন্য জেলাগুলিও।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত লাভায় বৃষ্টি হয়েছে ৭ সেন্টিমিটার। বিপর্যস্ত হয়েছে এখানকার জনজীবন। বৃষ্টি না হওয়ার পরেও এদিন তিস্তার জলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয় মাল, ক্রান্তি, ময়নাগুড়ি ব্লকের বেশ কয়েকটি এলাকায়। ময়নাগুড়ি ব্লকের দোমোহনি থেকে কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ পর্যন্ত তিস্তার অসংরক্ষিত এলাকায় লাল সতর্কতা জারি করে সেচ দপ্তর। সেখানে ২ অগাস্ট থেকে টানা তিনদিন উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় দু’একটি জায়গায় ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে তিস্তা তো বটেই, অন্য নদীগুলিতেও জলস্ফীতি ঘটবে। এখনকার কমলা সতর্কতা বদলে সর্বত্রই লাল হয়ে যেতে পারে। মোকাবিলা হয়ে উঠতে পারে চ্যালেঞ্জ।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *