উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: মঙ্গলবার দুপুরে রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু কালীঘাটে তৈরি হলো নজিরবিহীন রাজনৈতিক নাটক। বিধানসভায় সই জালিয়াতি কাণ্ডের তদন্তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন সংলগ্ন তৃণমূলের পার্টি অফিসে (৩০বি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট) আচমকাই হানা দিল সিআইডি (CID raid)। শুধু সিআইডি নয়, তাদের সঙ্গে ছিল পুলিশ। ঘণ্টাখানেকের তীব্র বাদানুবাদের পর অবশেষে কার্যালয়ের অন্দরমহলে প্রবেশ করলেন তদন্তকারীরা।
অভিযোগ, বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুর কাছে পাঠানো তৃণমূল বিধায়কদের সই করা একটি চিঠিতে বড়সড়ো জালিয়াতি হয়েছে। যে বৈঠকে ওই সই সংগ্রহ করা হয়েছিল, তা হয়েছিল কালীঘাটের এই কার্যালয়েই। সেই বৈঠকের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে মঙ্গলবার দুপুরে সিআইডি-র একটি দল সেখানে পৌঁছায়। বাসে করে আনা হয়েছিল মহিলা পুলিশ কর্মীদেরও।
শুরুতে বাধার মুখে পড়েন গোয়েন্দারা। গেটে এসে তৃণমূলের কোষাধ্যক্ষ তথা প্রাক্তন সাংসদ শুভাশিস চক্রবর্তী সাফ জানিয়ে দেন, নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ও সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) দুজনেই বর্তমানে দিল্লিতে। তাঁদের অনুপস্থিতিতে কার্যালয়ে কাউকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার এক্তিয়ার তাঁর নেই। সিআইডি আধিকারিকরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাঠানো নোটিশ দেখালেও শুভাশিস অনড় থাকেন। তিনি তদন্তকারীদের দু-তিন দিন সময় দেওয়ার অনুরোধ জানান। তবে গোয়েন্দারা জানিয়ে দেন, কার উপস্থিতি বা অনুপস্থিতির সঙ্গে তদন্তের কোনো সম্পর্ক নেই। শেষপর্যন্ত দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর গেট খুলে ভিতরে প্রবেশ করে সিআইডি। একইসঙ্গে গোয়েন্দাদের একটি দল অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসেও হানা দেয়।
উল্লেখ্য, সই-কাণ্ডের তদন্তে গত ৩০ মে থেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর নজর রয়েছে গোয়েন্দাদের। ১ জুন তাঁকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি ১৪ দিনের সময় চেয়েছিলেন। সিআইডি সেই আর্জি খারিজ করে সাত দিনের মধ্যে হাজিরার নোটিশ পাঠায়। সোমবার সেই সময়সীমা পেরোনোর পরই মঙ্গলবার সরাসরি দলীয় কার্যালয়ে হানা দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
তৃণমূল নেত্রীর বাড়ির ঠিক বিপরীতে দলীয় কার্যালয়ে গোয়েন্দা সংস্থার এই প্রবেশ রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ থেকে শুরু করে বৈঠকের খুঁটিনাটি—সবই এখন সিআইডি-র আতশকাচের নীচে। এই তল্লাশি অভিযান কি কেবল আইনি তদন্ত, নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো বৃহত্তর রাজনৈতিক সমীকরণ? আপাতত সেই উত্তরের অপেক্ষায় রাজ্য রাজনীতি।
