মনজুর আলম, চোপড়া: আশ্বাসের ভরসায় কেটেছে দু’বছর। রাজ্যপালের পর এবার রাজভবন থেকেও সেই আশ্বাস নিয়েই বাড়ি ফিরলেন চোপড়ার (Chopra) সন্তানহারা ৪ পরিবারের সদস্যরা। বৃহস্পতিবার সকালে তাঁরা রাজভবন পৌঁছোন। রাজ্যপালের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার আগেই আধিকারিকরা তাঁদের আশ্বাস দিয়ে জানান, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ঘোষিত ক্ষতিপূরণের টাকা তাঁরা পেয়ে যাবেন। মৃত এক শিশুর বাবা সমিরুল ইসলামের সঙ্গে এদিন ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমরা আজ রাজভবনে গিয়েছিলাম। সেখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা আমাদের ভিতরে নিয়ে গিয়ে অপেক্ষা করতে বলেন। তাঁরা আমাদের অভিযোগের বিষয়টি লিখিত দরখাস্ত আকারে জমা নিয়েছেন।’ আরেক মৃত শিশুর বাবা ভোলা মহম্মদ বলছেন, ‘এদিন রাজভবনের ভেতরে নিয়ে গিয়ে আধিকারিকরা আমাদের কথা মন দিয়ে শুনেছেন। রাজ্যপালের দপ্তরের নম্বরও দিয়েছেন। প্রয়োজনে যোগাযোগ করতে বলেছেন।’ কিন্তু এতদূর থেকে কলকাতা গিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা না করেই ফিরে আসার প্রসঙ্গে তাঁরা জানান, রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য আগাম অনুমতি নেওয়া ছিল না তাঁদের। তাই আধিকারিকরা বলেন, ‘এক সপ্তাহের মধ্যে টাকা না পেলে তাঁরা এসে দেখা করতে পারবেন। একথা শুনে মৃতের পরিজনরা রাজভবন ছাড়েন।’
চোপড়ার ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছে চেতনাগছ গ্রামে ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি মাটি চাপা পড়ে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়। ঘটনার পর গ্রামে গিয়েছিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দেন তিনি। প্রায় দু’বছর কেটে যাওয়ার পরেও কোনও ক্ষতিপূরণ পাননি বলে দাবি করেন তাঁরা। ফলে রাজ্যপালের কাছে দরবার করতে বুধবার রওনা হন ওই ৪ শিশুর পরিজন।
