উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: তাইওয়ান (Taiwan) নিয়ে ক্রমেই পারদ চড়ছে চিন-জাপানের (China-Japan) মধ্যে। এনিয়ে চিনের তরফে জাপানকে হুশিয়ারি পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ওই দুই দেশের মধ্যে ফের রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে চিনে থাকা জাপানি নাগরিকদের সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে টোকিও।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানাই তাকাইচির সরকার চিনে বসবাসকারী জাপানি নাগরিকদের বাড়ির বাইরে চিনা নাগরিকদের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। জাপানের বিদেশ দপ্তর ওই সতর্কবার্তায় একা একা দূরে ভ্রমণ, বিশেষত শিশুদের সঙ্গে নিয়ে বাইরে বেরোলে সতর্ক থাকাতে বলেছে। এছাড়াও ওই বার্তায় বলা হয়েছে, যদি কোনও ব্যক্তি বা দলকে কোনওভাবে সন্দেহজনক বলে মনে হয় তাহলে তাঁদের সঙ্গে কথা বলবেন না। যত দ্রুত সম্ভব সেই স্থান ত্যাগ করবেন।
উল্লেখ্য, শুক্রবার চিনা প্রতিরক্ষা দপ্তর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিল, তাইওয়ান পরিস্থিতি নিয়ে নাক গলানো বন্ধ না করলে ধ্বংসাত্মক সামরিক পদক্ষেপের মুখে পড়বে জাপান। পালটা জবাবে ভারতীয় সময় শুক্রবার রাতে চিনা রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া বার্তা দিয়েছিল টোকিও।
সে দেশের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মাইনরু কিহারা বলেন, ‘আমরা দেশ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থাকে প্রাধান্য দিয়ে সেই ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
গত তিন বছরে একাধিক বার তাইওয়ান প্রণালী দিয়ে তাইওয়ানের জল এবং আকাশসীমায় ঢোকে চীন। অভিযোগ, এতে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে বেজিং।
২০২২ সালের অগাস্টে চিনের আপত্তি খারিজ করে আমেরিকার কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অফ রিপ্রেজ়েনটেটিভসের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফরের পর থেকে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। সেই সময় ধারাবাহিক ভাবে তাইওয়ানের আকাশসীমা লঙ্ঘন শুরু করে চিনা যুদ্ধবিমান। চিন-তাইওয়ান সঙ্কটের আবহে সে সময় আমেরিকার কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ তাইওয়ান প্রণালীতে ঢুকেছিল। ওই সময় পূর্ব চিন সাগর থেকে কয়েকটি জাপানি যুদ্ধজাহাজও তাইওয়ান প্রণালীতে প্রবেশ করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে ওই প্রথমবার তাইওয়ান প্রণালীতে জাপানি যুদ্ধজাহাজের অনুপ্রবেশ ঘিরে দু’দেশের সংঘাত শুরু।
